কিশোর কুমারের গান গাইতে সবচেয়ে ভালবাসেন তিনি। সেই গানেই যেন প্রাণ খুঁজে পান রবীন্দ্রনাথ বাবু। সুযোগ পেলেই গেয়ে ওঠেন জনপ্রিয় সব পুরোনো বাংলা ও হিন্দি গান। তাঁর কণ্ঠে কিশোর কুমারের গান শুনে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রায় তিন দশক ধরে বাংলার নানা প্রান্তে ছোট বড় অনুষ্ঠানে গান গেয়েছেন তিনি। তবে গান তাঁর পেশা নয়। গান তাঁর নেশা আর ভালবাসা। জীবিকার জন্য বেছে নিয়েছেন অন্য পথ। বর্তমানে তিনি এগরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে কর্মরত। প্রতিদিনই রোগী নিয়ে ছুটে বেড়াতে হয় তাঁকে।
advertisement
আরও পড়ুন-বিরাট সুখবর! নৈহাটির বড়মার মন্দিরে গিয়ে আর দিতে হবে না লাইন! কারা পাবেন বিশেষ সুবিধা? জানুন
দায়িত্বের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত কঠোর এবং সময়নিষ্ঠ। জরুরি অবস্থায় দ্রুতগতিতে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। অনেক সময় রাত জেগেও কাজ করতে হয় তাঁকে। তবে কাজের মধ্যেও মানবিকতা হারাননি তিনি। হাসপাতাল থেকে রোগী বাড়ি ফেরার সময় শুরু হয় তাঁর অন্য পরিচয়। তখন তিনি হয়ে ওঠেন গায়ক। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই গেয়ে ওঠেন প্রিয় গান। ক্লান্ত রোগী এবং উদ্বিগ্ন পরিবারের মানুষজন সেই গান শুনে স্বস্তি পান। দীর্ঘ চিকিৎসার চাপ, দুশ্চিন্তা আর ভয় কিছুটা হলেও দূরে সরে যায়।
কেউ কেউ আবার ভিডিও করে সেই মুহূর্ত ধরে রাখেন স্মৃতি হিসেবে। এলাকায় এখন তিনি ‘গায়ক অ্যাম্বুলেন্স চালক’ নামেই বেশি পরিচিত। তাঁর অ্যাম্বুলেন্সে শুধু চিকিৎসার যাত্রা নয়, থাকে মানবিক স্পর্শ। নিজের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মানুষের মুখে হাসি ফোটান তিনি। সমাজের কাছে তিনি এক অন্যরকম উদাহরণ। কাজ আর ভালবাসাকে একসঙ্গে বাঁচিয়ে রেখেছেন রবীন্দ্রনাথ শীট। সত্যিই তার এই কর্মকাণ্ডকে কুর্নিশ জানাতে হয়।





