মিলল ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট, নিভে গেল আশার আলো। স্বজন হারানোর ব্যথার মধ্যে কোথাও একটা আশা ছিল হয়ত, প্রিয় মানুষটা ফিরে আসবে। কিন্তু সেই আশার আলোটাই নিভে গেল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফোন আসার পরেই থমথমে পরিবেশ আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজের পরিবারে। গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে আনন্দপুরে গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রায় ২১ জন নিখোঁজ ছিল। সেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের রিপোর্ট এল।
advertisement
আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২১টি পরিবার হারিয়েছে স্বজনকে। স্বজনহারানো ব্যথা প্রায় একমাস হতে চললেও মুছে যায়নি। প্রায় এক মাস ধরে ওই পরিবারের মানুষজন আশায় ছিল হয়ত পরিবারের প্রিয় মানুষটি বেঁচে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতদের শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্ট করা হয়।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ওই ২১ টি পরিবারের সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। অবশেষে, সেই নমুনার সঙ্গে ১৬ জনের ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট মিলেছে। এ বিষয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল জানিয়েছেন, “আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোটের নিখোঁজের সংখ্যা ২১ জন। ওই পরিবারগুলি থেকে ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ‘বন্দে মাতরম’ ইস্যুতে হাইকোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা! অধীর চৌধুরী বললেন..
২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার পর্যন্ত ১৬ জনের ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট মিলেছে। ওই পরিবারদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার তাঁদের হাতে, দেহাবশেষ তুলে দেওয়া হবে। বাকি নিখোঁজদের ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট আশা করি খুব তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে। দেহাবশেষ তুলে দেওয়ার পর বাকি যে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা রয়েছে সেই প্রক্রিয়া শুরু হবে”
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই পরিবারের মনে আশা ছিল হয়ত বাড়ি ফিরবে প্রিয় মানুষটি! অবশেষে ফোন এসেছে মানুষটি আর বেঁচে নেই। পোড়া শরীরের নিথর দেহ ফিরবে বাড়িতে। আর তা জানতে পেরেই আরও একবার কান্নার রোল উঠল আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের নিখোঁজ পরিবারে।
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে তমলুকের নিখোঁজ ক্ষুদিরাম দিন্দার পরিবারের লোক জানায়, প্রশাসনের কাছ থেকে খবর পেয়েছি, ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট মিলেছে। এতদিন ধরে আশা ছিল হয়ত সশরীরে ফিরবে মানুষটি। কিন্তু সেই আশাটা শেষ হল। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট মিলে যাওয়া প্রতিটি পরিবারে ফোন করে জানিয়েছে। ওই ঘটনায় প্রথম দিন থেকেই পাশে রয়েছে জেলা প্রশাসন।






