দম্পতির মেয়ে দুর্গাপুরে পড়েন। তিনি খবর পাওয়া মাত্র বাড়িতে ফিরে সারমেয়টির খোঁজে ব্যস্ত রয়েছেন। ইতিমধ্যেই বর্ধমান থানায় নিখোঁজের ডায়েরি হয়েছে। এছাড়াও সারমেয়টির ছবি-সহ সন্ধান চাই পোস্টারে শহর ছেয়ে ফেলা হয়েছে। সন্ধান দিলে মিলবে এক হাজার টাকা পুরস্কার।
advertisement
বর্ধমানের খাজা আনোয়ার বের এলাকার বাসিন্দা সুকান্ত দে। তাঁর স্ত্রী ঝর্নাদেবী বলেন, এই সব কুকুরদের আমরা খুব ভালোবাসি। সন্তান স্নেহে বড় করছি। প্রতিদিন মাংস ভাত খাওয়াই। আমি রান্না করি, আমার স্বামী ওদের খেতে দেয়। মোট বারোটি কুকুর রয়েছে। সবই দেশী।
তার মধ্যে ছোটটি দেখতে একদম বিদেশি কুকুরের মতো। তাকে শুক্রবার সকাল থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে আমার স্বামী মেয়েকে ফোন করে। মেয়ে দুর্গাপুরে থেকে পড়াশোনা করে। ও খবর পেয়েই চলে আসে।
সুকান্ত বাবুর মেয়ে রাজশ্রী জানান, ‘‘আমরা টুনটুনিকে ফিরে পেতে চাইছি। প্রথমেই বর্ধমান থানায় গিয়ে নিখোঁজের ডায়েরি করি। কিন্তু মুস্কিল হল আমাদের এই এলাকা থেকে শুরু করে বের মোড় পর্যন্ত কোনও সিসিটিভি নেই। তাই পুলিশের পক্ষে কে চুরি করল তা জানা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
রাজশ্রী জানান, ‘‘অনেকেই ওকে চেয়েছিল। বলেছিলাম, একটু বড় হোক। মায়ের দুধ খাওয়া ছাড়ুক তারপর ভাবা যাবে। সাধারণত ষাট দিন পর্যন্ত মায়ের দুধ খেতে দিতে হয়। কেউ হয়তো চুরি করে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু চিন্তার ব্যাপার হল, আমরা সব কুকুরকে নিয়মিত ভ্যাকসিন দিই, ডি ওয়ার্মিং করাই।’’
এছাড়া পার্ভোর মতো ভয়ঙ্কর সব রোগের চিকিৎসার ব্যাপার রয়েছে। যে নিয়ে গেল সে কি এতকিছু ভেবে বড় করবে সেই চিন্তা হচ্ছে। তাই আমরা চাইছি, ওকে ফিরে পেতে। সেইজন্যই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার দিয়েছি। যে বা যাঁরা ওর সন্ধান দেবে তাদের পুরস্কৃত করবো।
