সংশ্লিষ্ট দুই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে ওই দুই নার্সিংহোমে নতুন করে কোনও রোগী ভর্তি করানো যাবে না। তবে বর্তমানে যেসব রোগী ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরের কাছাড়ি রোডে অবস্থিত কাটোয়া নার্সিংহোম-এর বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বর মাসে তিন প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
advertisement
আরও পড়ুন: প্রকাশ হয়ে গেল SIR-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা! অনলাইনে কী ভাবে খুঁজবেন নাম, জানুন Step Wise
অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা স্বাস্থ্য দফতর তদন্তে নামে। তদন্তে উঠে আসে, চিকিৎসা পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামোরও অভাব রয়েছে সেখানে।
স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী কোনও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্সিং স্টাফ নেই, ওটি টেবিল পুরনো ও অচল, OT পরিচালনায় নিযুক্ত কর্মীরাও প্রশিক্ষণহীন,পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই,বেড অপরিষ্কার,মেঝে নোংরা ও স্যাঁতসেঁতে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
যদিও নার্সিংহোমের কর্মীদের দাবি, লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। অপরদিকে, দীর্ঘদিনের পুরনো পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে কাটোয়ারই শান্তি নার্সিংহোম-এও তদন্ত চালায় স্বাস্থ্য দফতর।
তদন্তে দেখা যায়, ভবন ও পরিকাঠামো অত্যন্ত পুরনো এবং নার্সিংহোম পরিচালনার জন্য অনুপযুক্ত। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ওটি ভবনের তৃতীয় তলায় সিঁড়ি সংকীর্ণ, লিফটের ব্যবস্থা নেই, ওটি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নার্সিং স্টাফ নেই, ওটি টেবিল পুরনো ও অচল, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, রোগী ও পরিজনদের জন্য টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।
তবে এই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য দফতরের অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের দাবি, চিকিৎসার উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কেন এই নোটিস দেওয়া হয়েছে, তা তাঁদের বোধগম্য নয়।
কাটোয়া মহকুমার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ স্বাস্থ্য আধিকারিক বিপ্লব মণ্ডল জানান, একাধিক গুরুতর ত্রুটির কারণেই দুই নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আপাতত নতুন রোগী ভর্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে বর্তমানে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।






