চরম অসহায়তার শিকার হয়ে সরকারি হাসপাতালে রাত কাটাচ্ছেন রেমিজা খাতুন নামে ওই গৃহবধু। তাঁর দাবি, একাধিকবার থানায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা না মেলায় শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। গৃহবধূ রেমিজা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামীর নাম নুর আলম মণ্ডল। বাড়ি অশোকনগর থানার রাজবেরিয়া এলাকায়। গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ভিনরাজ্যে কাজ করে সংসার চালাতেন রেমিজা। সেই উপার্জনের টাকায় স্বামীর জন্য বাইক, গাড়ি কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি তৈরিতেও আর্থিক সাহায্য করেছেন বলে দাবি তার।
advertisement
কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার পর থেকেই নাকি বদলে যায় স্বামীর আচরণ। রেমিজার অভিযোগ, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে নুর আলম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই বিয়ের এখনও এক বছর পূর্ণ হয়নি বলেও জানান তিনি। বর্তমানে তার সঙ্গে রয়েছে ৯ বছরের কন্যা ও প্রায় দু’বছরের এক পুত্র সন্তান। দিনের বেলায় বারাসাত, আরজিকর, হাওড়া, শিয়ালদহ-সহ বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে কোনওরকমে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন তিনি। আর রাত হলেই ফিরে আসছেন হাসপাতালের চত্বরে।
তিনি জানান, বারবার অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়েছেন বলেও জানান রেমিজা। তার বাপের বাড়ি হাড়োয়া এলাকায় হলেও বাবা-মা আর বেঁচে নেই। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও তেমন সাহায্য পাননি। এখন মানবিকতার খাতিরে রোগীর পরিজনেরা মাঝে মধ্যে খাবার দিয়ে সাহায্য করছেন এই অসহায় মা-সহ সন্তানদের।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে দীর্ঘদিন এভাবে হাসপাতালে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে! স্থানীয় এলাকার মানুষজন মনে করছেন, বিষয়টি প্রশাসনের দ্রুত খতিয়ে দেখা উচিত। শারীরিক অসুস্থতা দিন দিন বাড়ছে রেমিজার। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। অসহায় এই মায়ের কথায়, ‘আমার কিছু হলে বাচ্চাদের কী হবে!’ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীপরিজনদের ও রাস্তাঘাটে থাকা মানুষদের ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে চলেছেন এই অসহায় মা। এখন দেখার প্রশাসন বা কোন সহৃদয় ব্যক্তি এই অসহায় মা ও সন্তানদের পাশে দাঁড়ায় কিনা।





