advertisement
‘উনি আমার আগে থেকে…’ রিঙ্কুর টিকিট না পাওয়া নিয়ে যা বললেন দিলীপ ঘোষ! কেন বঞ্চিত তাঁর স্ত্রী?
‘তীব্র নিন্দা করেছি’…ইদে ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন মোদির, কী কথা হল? বিশদে লিখলেন প্রধানমন্ত্রী
পানিহাটির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে সুলেখার গভীর সম্পর্ক। এলাকার ‘সুলেখা মোড়’ নামটিই সেই ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। নাটাগড় রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত কারখানাটি দীর্ঘদিন উৎপাদন চালালেও আর্থিক সঙ্কট ও শ্রমিক সমস্যার জেরে ১৯৮৪ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সংস্থার ইতিহাস মুছে যায়নি। বর্তমানে যাদবপুরে সংস্থার অফিস এখনও সেই অতীতের স্মৃতি বহন করছে।
সুলেখা কালির নামকরণের নেপথ্যে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির গর্বের ইতিহাস। জানা যায়, এই স্বদেশি কালির নামকরণ করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বদেশি আন্দোলনের আবহে, মহাত্মা গান্ধীর অনুপ্রেরণায় তৈরি এই দেশীয় কালির নাম তিনি দেন “সুলেখা”, যার অর্থ ‘ভাল লেখা’।
শুধু নামকরণই নয়, এই কালির প্রচারের ক্ষেত্রেও কবিগুরুর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সুলেখা কালির জন্য তিনি একটি স্মরণীয় ট্যাগলাইন লিখেছিলেন—“সুলেখা কালি, এই কালি কলঙ্কের চেয়েও কালো”। এই বাক্য শুধু বিজ্ঞাপন নয়, বরং সেই সময়ের স্বদেশি চেতনা ও দেশীয় পণ্যের প্রতি আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে, সুলেখা কালি শুধুমাত্র একটি লেখার উপকরণ নয়, বরং তা ভারতীয় আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি এবং স্বনির্ভরতার এক উজ্জ্বল ইতিহাস বহন করে।
সম্প্রতি পানিহাটির পুস্তক মেলায় আবারও দেখা মিলেছে সুলেখার ফাউন্টেন পেন ও কালির সম্ভার। নস্টালজিয়ায় ভর করে বহু মানুষ পুরনো দিনের সেই কালি ও পেন কিনতে ভিড় জমিয়েছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে আবার সোদপুর বা পানিহাটিতেই ফিরুক এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
স্থানীয়দের মতে, সুলেখা শুধুমাত্র একটি কালি নয়, এটি বাঙালির শিক্ষাজীবন ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘বন্দেমাতরম’-এর দেড়শ বছর উপলক্ষে বিশেষ কালি ও দোয়াতের সেটও সামনে এনেছে সংস্থা। সব মিলিয়ে, অতীতের ইতিহাসকে যেন আবার ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পেল সোদপুর-পানিহাটির মানুষ।





