আজ এই বহুরূপী সাজকেই নিজের পেশা করে তুলেছেন তিনি। প্রতিবছরের মত এবছরও কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় দুপুর থেকে রাত প্রতিদিনই নানা প্রান্তে দেখা মিলছে গোপালবাবুর। চকচকে ‘সোনালি’ দেহের স্ট্যাচু রূপে তাঁর উপস্থিতি বইমেলার দর্শকদের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ে। বহু মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন তাঁকে একনজর দেখতে, কেউ কেউ আবার সেলফি তুলছেন এই জীবন্ত শিল্পকর্মের সঙ্গে। দু’হাত মাথার ওপরে তুলে ধরা রঙ করা বাঁশের খুঁটি, সেখান থেকে ঝুলছে স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ পরমহংস, সারদা মা থেকে শুরু করে দেশাত্মবোধক নানা পোস্টার।
advertisement
সামান্য ব্যবধানে পায়ের পাতা এগিয়ে-পিছিয়ে নিখুঁত ভারসাম্যে দাঁড়িয়ে থাকছেন তিনি। তবে ভিড়ের মাঝে অনেক দর্শকই কিছুটা অবাক। হঠাৎ ধাক্কা লাগলে যদি উল্টে পড়ে যায় চকচকে এই মূর্তিটি! কোমরে ঝোলানো কিউআর কোড। এই শিল্পীর এমন শিল্পকর্ম দেখে খুশি হয়ে সাহায্য করছেন মেলায় আসা মানুষজন। তবে বইমেলায় আলাদা আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠলেও গোপাল মণ্ডলের কণ্ঠে ধরা পড়ছে একরাশ আক্ষেপ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শিল্পকলার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে আনন্দ দিলেও আজও সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা বা স্বীকৃতি মেলেনি বলে জানান তিনি। খেতমজুরের জীবনের কঠোর বাস্তবতার মধ্যেও বহুরূপী শিল্পই তাঁর বেঁচে থাকার আশ্রয়। ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় গোপাল মণ্ডল তাই শুধু এক ‘সোনালি স্ট্যাচু’ নন, তিনি বাংলার লোকশিল্পের এক নীরব প্রতিনিধি, যাঁর শিল্প দর্শকের মন ভরালেও জীবনের স্বীকৃতি এখনও অধরাই। আর তাই রং মেখেই যেন ক্ষুধার যন্ত্রণা মেটে শিল্পী গোপাল মন্ডলের।





