বরানগর, ব্যারাকপুর, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় একই চিত্র ধরা পড়েছে। জেলায় আনুমানিক প্রায় ৩০ হাজার অটো চলাচল করে। কিন্তু অটোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস রিফিলিং কাউন্টার রয়েছে মাত্র হাতেগোনা প্রায় কুড়িটির মতো। ফলে বিপুল সংখ্যক অটোর জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন চালকেরা। অনেক ক্ষেত্রেই গ্যাস ভরার জন্য দীর্ঘ সময় পরিষেবা বন্ধ রেখে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অটোচালকদের। এদিন জেলার বামুনগাছি, বরানগর-সহ বিভিন্ন গ্যাস পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বহু অটোচালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহের অপেক্ষা করেছেন। আচমকা এলপিজির দাম বাড়ানোয় চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগও বেড়েছে।
advertisement
অটোচালকদের অভিযোগ, একদিকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহের সমস্যা, অন্যদিকে দাম বৃদ্ধির ফলে আর্থিক চাপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিরও প্রভাব পড়েছে এই সংকটে বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার প্রভাবেই ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগানেও চাপ পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এই পরিস্থিতিতে জেলা অটো ইউনিয়নের তরফে আইএনটিটিইউসি নেতা তাপস দাশগুপ্ত জানান, বিষয়টি নিয়ে রবিবার বৈঠকে বসবেন তারা। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। তবে এখনও সরকারিভাবে অটোভাড়া বাড়ানো হয়নি বলেই দাবি তাঁর। যদিও জ্বালানির সংকটে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। এদিকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অটো পরিষেবাতেও।
সরকারিভাবে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা না থাকলেও বহু রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। অনেক অটোচালকের দাবি, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং পাম্পে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। সেই বাড়তি খরচ সামলাতেই যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে হচ্ছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রীরাও। প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়তি ভাড়া দিতে হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয় এখন সেটাই দেখার।






