ঐতিহাসিক কৃষ্ণনাথ কলেজকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির গোড়া থেকেই জেলার বড় অংশের মানুষ প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। যাঁর দান করা জমির উপর প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, সেই রাজার নাম বাদ পড়া নিয়ে জনমানসে ক্ষোভ তৈরি হয়। ১৮৫৩ সালে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হওয়ার পরে কৃষ্ণনাথের নাম ‘ব্রাত্য’ রাখা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। জেলার ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের দানা বাঁধতে শুরু করেছিল জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। নাম পরিবর্তনের দাবিতে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তনী থেকে শুরু করে বিশিষ্টরা।
advertisement
আরও পড়ুন: শিব চতুর্দশীতে জল্পেশ মন্দিরে নয়া নিয়ম! চালু হচ্ছে দু’রকমের টিকিট, জানুন বাকি বন্দোবস্ত
কাশিমবাজার রাজ পরিবারের শিক্ষানুরাগী রাজা কৃষ্ণনাথ ও তাঁর স্ত্রী রানী স্বর্নময়ীয় অদম্য প্রচেষ্টায় ও আর্থিক অনুদানে ১৮৫৩ সালের ১ নভেম্বর বহরমপুর কলেজ নামে কৃষ্ণনাথ কলেজের পথচলা শুরু। পরবর্তিতে নাম পরিবর্তন করে কৃষ্ণনাথ কলেজ নামকরণ করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ হওয়াতে কৃষ্ণনাথ নাম না থাকায় নাম পরিবর্তনের দাবিতে লড়াইয়ে নামে প্রাক্তনীরা। অবশেষে দীর্ঘ আট বছরের লড়াইয়ে সফল হওয়ায় খুশির হাওয়া প্রাক্তনী মহলে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সরকারি সূত্রে খবর, জেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবিকে সম্মান জানিয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতে এই নামকরণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে শুধু একটি আইনি সংশোধন নয়, বরং মুর্শিদাবাদের মানুষের দীর্ঘ দিনের অভিমান প্রশমিত হল বলেই মনে করা হচ্ছে। এই ঘোষণা চাউর হতেই খুশির হাওয়া বহরমপুর-সহ গোটা জেলায়। ঐতিহাসিকদের মতে, রাজা কৃষ্ণনাথের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এই নতুন নামকরণ শিক্ষার আঙিনায় সুস্থ ও ইতিবাচক বার্তা দেবে। প্রশাসনিক স্তরে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটিও দ্রুত শেষ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শহরের প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে বর্তমান ছাত্রসমাজ, সকলেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, দেরিতে হলেও ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটল। এই পদক্ষেপের ফলে মুর্শিদাবাদের শিক্ষা-সংস্কৃতির ইতিহাসে রাজা কৃষ্ণনাথের নাম যেমন চিরস্থায়ী হল, তেমনই সাধারণ মানুষের জয়ী হল আবেগ।





