বর্তমান সময়ে মেয়েদের স্বনির্ভর করে তুলতে নানা ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। গ্রামে গ্রামে স্ব-সহায়ক দলের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হাতের কাজ শিখিয়ে গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর করা হচ্ছে। এবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মাছের আঁশ হয়ে উঠেছে রোজগারের মাধ্যম। মাছের আঁশ দিয়ে নানা রকম গয়না ও ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি করে সফল মহিলারা। তাঁদের পাশে রয়েছে প্রশাসন।
advertisement
আরও পড়ুনঃ জলেই গেল ১০০ বস্তা ধান! পাথরপ্রতিমায় নৌকা উল্টে বিপত্তি, কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
মাছের আঁশ থেকে বিভিন্ন রকমের গয়না, শো-পিস ও ঘর সাজানো অন্যান্য জিনিসপত্র তৈরি করছেন মহিলারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর এই কাজ করছেন তাঁরা। মাছের আঁশ থেকে ময়ূর পালতোলা নৌকা, গোলাপ ফুল সহ কানের দুল, গলার হার বানানো হচ্ছে। এক-একটি জিনিস বানাতে প্রায় দু-আড়াই ঘণ্টা সময় লাগছে। এই সব জিনিস বিক্রিও হচ্ছে ভালই।
মাছের আঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিসের দাম রয়েছে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০ টাকা পর্যন্ত। মূলত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সরকারি বিভিন্ন মেলায় এইসব জিনিস বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। শ্রীমা ভট্টাচার্য নামে এক মহিলা জানান, “প্রথমে টেলারিং-এর কাজ করতাম। কিন্তু আর্থিকভাবে তেমন লাভবান হতে পারিনি। পরে ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে মাছের আঁশের জিনিসপত্র তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিনামূল্যে ওই প্রশিক্ষণ নিয়ে আঁশ থেকে নানা জিনিস তৈরি করার কাজ শিখে ফেলি। বর্তমানে এই কাজ করছি।
ভবানী জানা সামাই নামে আরেকজন বলেন, “এক-একটি জিনিস তৈরি করতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। বর্তমানে বিভিন্ন মেলায় এই জিনিসগুলি ভালই বিক্রি হচ্ছে। মাছের আঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন জিনিসের দাম ২০০ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এই কাজ থেকে আমরা উপকৃত হয়েছি।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তমলুকের রাখাল গ্রাউন্ডে সৃষ্টিশ্রী মেলা বসেছে। এই মেলায় শ্রীমা ও ভবানী তাঁদের স্টল নিয়ে বসেছেন। সেখানে রয়েছে মাছের আঁশ দিয়ে তৈরি কানের দুল সহ নানা ধরনের জুয়েলারি ও ঘর সাজানোর জিনিস। মাছের আঁশকে রোদে শুকিয়ে রঙ করে ও সাইজ অনুযায়ী কেটে জিনিসপত্র তৈরি করা হচ্ছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা জানান, চিরাচরিত পশুপালন ও টেলারিং ছেড়ে অন্য ধরনের কাজ তাঁদের আরও বেশি আকৃষ্ট করে। এক্ষেত্রে মাছের আঁশ থেকে জিনিসপত্র বানানোর কাজ আগামী দিনে অনেক কাজে লাগবে। ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ থেকেই কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেয়েছে গ্রামের মহিলারা।





