মালদহ শহরের মালঞ্চপল্লী এলাকার বাসিন্দা শম্পা হালদার প্রায় দশ বছর ধরে স্বামী পুলিন হালদারের সঙ্গে পাংচার সারাইয়ের কাজ করছেন। শহরের হ্যান্টা কালি এলাকায় তাদের একটি ছোট দোকান রয়েছে। প্রতিদিন বাড়ির কাজ সামলে সকালেই দোকানে এসে বসেন তিনি। কখনও একাই সামলান দোকান, আবার কখনও স্বামীর সঙ্গে মিলেই কাজ করেন। শম্পা হালদার জানান, আগে তিনি বাজারে মুরগি বিক্রি করতেন। কিন্তু পরে সেই জায়গায় দোকানঘর না থাকায় ওই কাজ ছেড়ে দিতে হয়।
advertisement
এরপর স্বামীর সঙ্গে পাংচার সারাইয়ের কাজে যুক্ত হন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির কাজ সেরে সকালে দোকানে এসে বসি। কখনও একা থাকতে হয়, আবার কখনও স্বামীর সঙ্গে মিলে কাজ করি। চাকায় হাওয়া দেওয়া থেকে শুরু করে টায়ার রিপেয়ার সব ধরনের কাজ করি। অনেক সময় বড় গাড়ির চাকা খুলতেও হয়। স্বামীর সাহায্যে ধীরে ধীরে সব কাজ শিখে নিয়েছি।’
শম্পার স্বামী পুলিন হালদার জানান, অনেক সময় কাজের জন্য দোকানে থাকতে পারেন না তিনি। সেই কারণেই প্রথম দিকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আসতেন। এখন শম্পা নিজেই অনেকটা কাজ সামলে নিতে পারেন। তিনি বলেন, ‘এখন ও নিজেই গাড়ির চাকা খুলে পাংচার সারাই করতে পারে। এতে কাজ অনেকটাই সহজ হয়েছে। আশেপাশে কোথাও গাড়ির টায়ার খারাপ হলে আমরা জরুরি পরিষেবাও দিয়ে থাকি।’
দোকানে প্লাগ, নিডল টুল, রিমার টুল-সহ বিভিন্ন যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন শম্পা হালদার। পুরুষ-প্রধান এই পেশায় নিজের জায়গা তৈরি করে মালদহ শহরে নারী শক্তির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ ও পরিশ্রমে মুগ্ধ এলাকার মানুষও।





