মশলা বাটা থেকে শুরু করে চাল, আটা, ডাল গুঁড়ো করা- একসময় এইসব কাজের একমাত্র ভরসা ছিল পাথরের তৈরি শিলনোড়া, জাঁতা ও চাক্কি। বর্তমানে মিক্সার গ্রাইন্ডার বা আধুনিক মিল মেশিনের ব্যবহার বাড়লেও বহু মানুষ এখনও এই প্রাচীন সামগ্রীর উপর ভরসা রাখেন। অনেকের মতে, হাতে বাটা মশলার স্বাদ ও গুণগত মান আলাদা, যা যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সবসময় মেলে না।
advertisement
মালদহ জেলার কালিয়াচক ২ ব্লকের পঞ্চানন্দপুর এলাকার বাসিন্দারা যেমন আজও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে পাথরের এই সামগ্রী তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। স্থানীয় হাট বাজারে সারা বছর শিলনোড়া, জাঁতা ও চাক্কির চাহিদা রয়েছে। পাথরের উপর সূক্ষ্ম কারুকার্য করে দক্ষ হাতে তৈরি করা হয় এইসব পাথরের সামগ্রী।
রিনা কর্মকার নামে এক বিক্রেতা জানান, “ভিন রাজ্য থেকে পাথর এনে নিজের হাতে সেই পাথর সাইজ করি। এরপর বিভিন্ন রকম কারুকার্য করা হয়। সারা বছরই বিভিন্ন হাট বাজার ও মেলায় গিয়ে বিক্রি করি।” জলি সাহা নামে এক ক্রেতা আবার জানান, “বর্তমানে মশলা বাটা থেকে শুরু করে চাল-আটা গুঁড়ো করার জন্য বিভিন্ন ধরনের যান্ত্রিক মেশিন এসেছে। তবে যতই মেশিন আসুক, পাথরের এই সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা কখনও ফুরোবে না। মেশিন খারাপ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু শিলনোড়া বা জাঁতা বছরের পর বছর টিকে থাকে। এটি শুধু ব্যবহারিক নয়, আমাদের ঐতিহ্যের অংশ।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের টান আজও অটুট। তাই আধুনিকতার ভিড়ে পাথরের শিলনোড়া, জাঁতা ও চাক্কি শুধু একটি ব্যবহারিক সামগ্রী নয়। এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি ও স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতীক বলে অভিমত অনেকের।





