ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কড়া নিরাপত্তা, বিএসএফ ও পুলিশের কঠোর নজরদারির মধ্যেও এ বছরও বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনায় পালিত হল এই ব্যতিক্রমী মেলা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার দশক আগে এই প্রেম মেলার সূচনা।
সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা সরজিত বিশ্বাস ও দীপা বিশ্বাস ১৯৮৮ সালে সরস্বতী পুজোর দিন প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হন। নিজেদের ভালোবাসার সেই বিশেষ দিনটিকে সমাজের সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় ‘প্রেম মেলা’।
advertisement
তখন থেকেই প্রতি বছর সরস্বতী পুজোর দিন পুজোর পাশাপাশি এই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে, যা একইসঙ্গে তাঁদের বিবাহবার্ষিকী উদযাপনেরও এক অনন্য মাধ্যম। প্রথম দিকে ছোট পরিসরে শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলার আকার ও গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ। মুখে-মুখে প্রচারের জেরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় জমাতে শুরু করেন প্রেমিক-প্রেমিকারা।
শুধু তরুণ যুগল নয়, প্রবীণ দম্পতিরাও আজ এই মেলার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভালোবাসার গল্প থেকেই মেলার জন্ম- এই তথ্য জানার পর মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এ বছর মেলায় দেখা যায় শাড়ি-পাঞ্জাবিতে সেজে আসা শতাধিক তরুণ-তরুণীকে।
হাত ধরাধরি করে মেলা প্রাঙ্গণে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় বহু যুগলকে। বিভিন্ন গানের তালে কোমর দুলাতেও দেখা যায় বহু যুগলকে। গোটা এলাকাজুড়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল আঁটোসাঁটো।
কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মেলা চত্বরে মোতায়েন ছিল পুলিশ, চলে কড়া নজরদারি। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সুটিয়ার এই অভিনব প্রেম মেলার খবর। ভালোবাসা যে সময়, বয়স কিংবা সীমান্তের কাঁটাতার মানে না- সুটিয়ার প্রেম মেলা প্রতিবছর সেই বার্তাই নতুন করে পৌঁছে দেয় সমাজের কাছে।
রুদ্র নারায়ণ রায়






