দিন কয়েক আগে ফাল্গুনের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় জলপাইগুড়ির একাধিক চা বাগানে। প্রকৃতির সেই রুদ্ররূপ কাটিয়ে এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে চা শিল্প। বিপর্যয়ের মাঝেই তাই যেন নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে বছরের প্রথম চা পাতা তোলা ‘ফার্স্ট ফ্লাশ’ এর সঙ্গে সেকেন্ড ফ্ল্যাশ। জলপাইগুড়ির বিভিন্ন চা বাগানে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এই মরশুমের প্রথম পাতা তোলা। চা শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের মতে, ‘ফার্স্ট ফ্লাশ’ চা আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন। এর স্বাদ ও সুবাসই একে আলাদা মর্যাদা দেয়।
advertisement
আরও পড়ুন-আগামী ৪০ দিন…! বুধের বাম্পার চালে ৫ রাশির ‘জ্যাকপট’, বিপুল আয়-উন্নতি, সোনায় মুড়বে কপাল
চা বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্রাকৃতিক বৃষ্টির জল যত বেশি পড়ে, ততই চা পাতার গুণমান বৃদ্ধি পায়। এ বছর আগাম বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন চা চাষিরা। এতে সেচের ওপর নির্ভরতা কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে। গত বছর সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় অনেক বাগানকে। এদিকে, চা গাছকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে কিছু বাগানে ব্যবহার করা হচ্ছে হলুদ প্লাস্টিক ট্র্যাপ, যার মধ্যে আঠা লাগানো থাকে। এতে রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই পাতা সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে যা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ফার্স্ট ফ্লাস এর চা পাতা তোলার শুরু হয়ে গিয়েছে বাগান গুলিতে আশা করা হচ্ছে দ্বিতীয় ফ্লাশের চা পাতাও বেশ ভাল পরিমাণেই উৎপাদিত হবে। তবে আশার মাঝেও খানিক সতর্কবার্তা দিচ্ছে চা মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, নিয়মিত বৃষ্টিপাত না হলে উৎপাদনে আবারও প্রভাব পড়তে পারে। সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক অনুকূলতার ভরসায় এই মরশুমে ‘লক্ষ্মী লাভ’-এর আশায় বুক বাঁধছেন জলপাইগুড়ির চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজারও মানুষ। ঝড়ের ধাক্কা পেরিয়ে তাই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে ডুয়ার্সের চা বাগান।





