শহরের জয়ন্তী পাড়ায় অস্থায়ী ঘর বেঁধে বসবাস শুরু করেন মহারাষ্ট্র থেকে আসা একদল শ্রমিক। কয়েক মাসের এই অস্থায়ী ঠিকানাই তাদের রুজি-রোজগারের কেন্দ্র। স্থানীয়দের কথায়, করলা নদীর বিভিন্ন অংশ—বিশেষ করে যেখানে প্রতিমা বিসর্জন হয় বা শহরের আবর্জনা জমা পড়ে—সেই সব জায়গায় ডুব দিয়ে মাটি তোলেন তারা। এরপর ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে সেই মাটি ধুয়ে খুঁজে বের করেন সোনা, রুপো কিংবা লোহার ক্ষুদ্র কণা।
advertisement
আরও পড়ুন: গ্যাসের আকালে কমছে অটো! নবদ্বীপে এখন যাতায়াত ব্যবস্থায় ত্রাতা এই রেল স্টেশন, খরচও বাঁচছে যাত্রীদের
শুধু নদী নয়, শহরের বিভিন্ন সোনার দোকানের সামনে কিংবা ড্রেন থেকেও সংগ্রহ করা মাটিতে একইভাবে চলে খোঁজ। এই কাজ পুরোপুরি নির্ভর করে অভিজ্ঞতা আর চোখের সূক্ষ্ম বিচারবোধের ওপর। শ্রমিকদের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয় তাদের। সংগৃহীত ধাতব কণায় তাদের সংসারের একমাত্র ভরসা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে এই জীবিকা মোটেও সহজ নয়। নোংরা জল, দূষিত পরিবেশ, দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে থাকা…সব মিলিয়ে প্রতিদিনই তারা ঝুঁকির মুখে। ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট—স্বাস্থ্যঝুঁকি নিত্যসঙ্গী। তবুও জীবনের তাগিদে, পরিবার চালানোর দায়ে, বছরের পর বছর এই কঠিন পথই বেছে নিচ্ছেন তারা। করলা নদীর তীরে এই নীরব সংগ্রাম যেন জলপাইগুড়ির আরেক বাস্তবতার গল্প বলে যেখানে বেঁচে থাকার লড়াইই সবচেয়ে বড় সত্য।





