প্রার্থীদের নাম তারা শুনেছেন বটে, কিন্তু তাঁদের চোখে দেখা বা সরাসরি কথা বলার সুযোগ কখনও হয়নি। ফলে ভোটের উৎসবও যেন এখানে এক অদেখা, দূরের বিষয়। আক্ষেপের সুরে গ্রামবাসী সরলা বিশ্বাস, ভবতোষ বিশ্বাসেরা বলেন, “আমাদের এখানে আজ অবধি কোনও প্রার্থী আসেনি প্রচারে। তাঁদের নাম শুনেছি কিন্তু গ্রামে দেখিনি। আমাদের এখানকার প্রধান সমস্যা হল যোগাযোগ ব্যবস্থা। আজ অবধি কোনও উন্নয়ন হয়নি।” উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একই ছবি। গ্রামের ঢালাই রাস্তা ভেঙে জরাজীর্ণ, বৈদ্যুতিক পোল থাকলেও আলো নেই। তবে সবথেকে বড় সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থা।
advertisement
আরও পড়ুন: প্রোমোটারদের জমি দখলের ছক রুখতে ঢাল মাছের চারা, হরিনদী বাঁচাতে অভিনব পদক্ষেপ! উঠেছে সংস্কারের দাবি
আজও এই গ্রামে পৌঁছানোর কোনও পাকা রাস্তা নেই। মূল সড়ক থেকে ফাঁকা মাঠ পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পর একটি বাঁশের সাঁকো পার হয়ে তবেই গ্রামে পৌঁছাতে হয়। বর্ষাকালে সেই পথও বন্ধ হয়ে যায়। বন্যার সময় গ্রামবাসীদের ভরসা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নৌকা। এই চরম দুর্ভোগের কারণে ইতিমধ্যেই অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাঁরা বাধ্য হয়েই থেকে গিয়েছেন এই অবহেলিত গ্রামেই। যদিও কেতুগ্রাম বিধানসভার এবারের তৃণমূল প্রার্থী সেখ শাহনওয়াজ বলেন, “যারা বলছে আমি গ্রামে যায়নি তারা ফালতু কথা বলছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এবারেও প্রচারের সময় যাব। ওই গ্রামে উন্নয়ন হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও করা হবে।” বিজেপি প্রার্থী মথুরা ঘোষ বলেন, “আমি নিজে ওই গ্রামে গিয়েছি। এবারেও ভোট প্রচারের সময় যাব।” গ্রামবাসীদের মনে জমে রয়েছে ক্ষোভ, আবার সেই সঙ্গে গভীর অভিমানও। চারপাশে উন্নয়নের আলো পৌঁছলেও তাদের গ্রাম কেন এখনও অন্ধকারেই পড়ে আছে, এই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। তাঁদের কথায়, “ভোট আসে, ভোট যায়, কিন্তু আমাদের বিধানপল্লীর কোনও পরিবর্তন হয় না।” ভোটের সময় অন্তত প্রতিশ্রুতির আশ্বাসটুকুও যেখানে অন্যত্র মেলে, সেখানেও বঞ্চিত এই গ্রামের মানুষ। তাই আশা-ভরসা ছেড়ে অনেকেই ধরে নিয়েছেন, তাদের গ্রামের উন্নয়ন যেন আর কোনওদিনই হবে না।