উত্তরবঙ্গের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে আবারও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে জলপাইগুড়িতে। মোহিতনগর ডাঙ্গাপাড়ায় মা শ্মশান কালী পুজো উপলক্ষে এবছরও আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ ‘গঙ্গারতি’। ডাঙ্গাপাড়া মা শ্মশান কালী পুজো কমিটির উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। করলা নদীর ঘাট সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই প্যান্ডেল নির্মাণ-সহ নানা প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে।
advertisement
আরও পড়ুন: চুরি করতে এসে গাছের মগডালে চোর! জলপাইগুড়িতে লঙ্কাকাণ্ড, আজব ঘটনা সামলাতে নামল দমকল
উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে গঙ্গারতি। টানা সাতদিন ধরে, অর্থাৎ ২৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই আরতি অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বেনারসের আদলে এই আরতির আয়োজন করা হচ্ছে এবং বেনারস থেকে আগত পুরোহিতরা মন্ত্রোচ্চারণ ও বিধি মেনে আরতি সম্পন্ন করবেন। টানা তৃতীয় বছরের মতো এই আয়োজন ঘিরে ইতিমধ্যেই ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, করলা নদীর উত্তরমুখী তীরে শুরু হচ্ছে জলপাইগুড়ির ঐতিহ্যবাহী বারুণী স্নান ও মেলা। মোহিতনগর গৌরীহাট এলাকায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে টানা সাতদিন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, করলা নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয়—এই ধারণাকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর বহু মানুষ এখানে সমবেত হন। আগামীকাল রয়েছে মহাবারুণী স্নানের সময়সূচী।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পুরোহিত জানালেন, আগামীকাল সূর্যোদয় থেকে সকাল ৮ টা অবধি রয়েছে পুণ্যতিথি। মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জমজমাট প্রস্তুতি চলছে। নাগরদোলা, চরকি, ড্রাগন রাইড-সহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসছেন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে করলার তীর জুড়ে আগামী কয়েকদিন ধর্মীয় আচার, মেলা আর দূর-দূরান্ত থেকে আগত মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠবে।





