উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটছে বসিরহাটের মাঠপাড়া এলাকার গাজি পরিবারের। ইরানে থাকা আমির হোসেন গাজির সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। ফোন বা ইন্টারনেট, কোনও মাধ্যমেই তার বা তার পরিবারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত খবর মিলছে না।
প্রায় আট বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ইরানে পাড়ি দেন আমির। পড়াশোনা শেষ করে সেখানেই শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হন তিনি। স্ত্রী ঊষা পারভীন, দুই পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে ইরানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন আমির। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন। হঠাৎ করেই এক দিন আগে সকালের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সব যোগাযোগ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, দু’দিন আগে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল আমিরের। সেটাই ছিল শেষ কথা। তখন আমির জানিয়েছিলেন, ইরানের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তার পর থেকেই তার ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনলাইন যোগাযোগও সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ পরিবারের।
advertisement
এই দীর্ঘ নীরবতা বাড়িয়ে তুলছে উদ্বেগ। ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থির পরিস্থিতির খবর মিললেও, আমিরের অবস্থান সম্পর্কে কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই বসিরহাটে উদ্বেগে থাকা তাঁর পরিবারের। ফলে প্রতিটি মুহূর্ত যেন আরও ভারী হয়ে উঠছে গাজি পরিবারের কাছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাড়িতে প্রায় ১৫ জন আত্মীয় একত্রিত হয়েছেন। বৃদ্ধা মা বারবার ছেলের নম্বরে ফোন করছেন, কিন্তু কোনওবারেই যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের দাবি, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দফতরের তৎপরতার দিকে তাকিয়ে রয়েছে তারা। গাজি পরিবারের একটাই প্রত্যাশা—যেন দ্রুত সুসংবাদ আসে এবং নিরাপদে ফিরতে পারেন আমির ও তার পরিবার। অনিশ্চয়তার এই অপেক্ষায় এখন একমাত্র ভরসা আশাই।






