শুরু হওয়া ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের প্রভাব স্পষ্ট দুবাইয়ের আকাশে। ড্রোন ও মিসাইল হামলার জেরে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্কের পরিস্থিতি আর তার সরাসরি ছাপ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার বহু পরিবারের উপর। কারণ জেলার অনেক যুবক-যুবতী বর্তমানে কর্মসূত্রে দুবাইয়ে রয়েছেন। রাতের আকাশ জুড়ে মিসাইলের আলোর ঝলকানি, একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ, এই দৃশ্যের ভিডিও নিজেরাই বাড়িতে পাঠাচ্ছেন কর্মরত ছেলে-মেয়েরা। সেই ভিডিও দেখে আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের, ভয়ে রাতের ঘুম উড়েছে। এখনও পর্যন্ত জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমার দুই দম্পতি এবং এক যুবক মিলিয়ে মোট পাঁচজন দুবাইয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে কালনা মহকুমার একজন এবং কাটোয়া সংলগ্ন নদিয়ার নয়াচর গ্রামেরও একজন রয়েছেন দুবাইয়ে। এদের মধ্যে কেউ নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, কেউ আবার বেসরকারি সংস্থায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তবে বর্তমানে মিসাইল হামলার জেরে কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন তাঁরা।
advertisement
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে তেহরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর। তার জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। সেই সংঘাতের রেশ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে দুবাই ও শারজাহ অঞ্চলে ড্রোন ও মিসাইল হামলার খবর মিলছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুবাই প্রশাসনের তরফে বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেতুগ্রামের বিল্লেশ্বরের বাসিন্দা রাকেশ শর্মা প্রায় চার বছর ধরে দুবাইয়ে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। বছর খানেক আগে স্ত্রী ববিতা সিংহকে নিয়ে সেখানে সংসার পাতেন। ববিতাও একটি শপিং মলে কাজ করেন। রাকেশ ফোনে জানান, তাঁরাও সেখানে আতঙ্কে রয়েছেন। এদিকে মেয়ে জামাইকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন ববিতার মা চন্দনা সিংহ। তিনি বলেন, “মেয়ে মোবাইলে ভিডিও পাঠিয়েছে, সেই ভিডিও দেখে আমাদের ভয়ে ঘুম ছুটেছে। মেয়ে জামাইও ওখানে আতঙ্কে আছে। আমরা চাই ওরা সুস্থ থাকুক, যেন কিছু না হয়।”
মঙ্গলকোটের ধারশোনা গ্রামের যুবক আবদুল সেলিম শেখ শারজাহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল–২ এলাকায় একটি গাড়ি সার্ভিস সেন্টারে কাজ করেন। পূর্বস্থলী–২ ব্লকের গাছা এলাকার বাসিন্দা শাহ জাহান শেখও বর্তমানে দুবাইয়ে। কাটোয়ার বিজনগরের এক দম্পতিও দুবাইয়ে রয়েছেন। কাটোয়া শহর সংলগ্ন নয়াচরের বাসিন্দা রাহুল মণ্ডল উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেই দেড় বছর আগে নির্মাণ সংস্থায় কাজে যোগ দেন সেখানে। তাঁরাও সকলেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রাহুলের বাবা বিশ্বনাথ মণ্ডল বলেন, “ছেলের জন্য চিন্তা হচ্ছে। ওখানে নাকি বোম পড়ছে।”
পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে ক্রমেই উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা সারা ক্ষণ ফোনে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন কাছের মানুষের সঙ্গে। প্রত্যেকটি ফোনকল যেন বুকের ধুকপুকানি বাড়িয়ে দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আগুন বহু দূরে জ্বললেও, তার উত্তাপ এখন স্পষ্ট বাংলার ঘরেও। নিরাপদে প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পূর্ব বর্ধমানের অসংখ্য পরিবার। তবে দুবাইয়ে যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভয় লাগলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনওরকম ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।





