যদিও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে একজন প্রাক্তন এনএসজি কম্যান্ডোর জীবন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে, তবুও কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, কাশ্মীর-সহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সন্ত্রাস দমন, ভিআইপি নিরাপত্তা এবং কৌশলগত অভিযানে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি দৃঢ় অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করেছে। সেনা জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি লেখক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর লেখা ‘আমি কম্যান্ডো’, ‘অপারেশন গুড উইল: লাল ফৌজের ডেরায় দীপাঞ্জন’ এবং ‘আবার কম্যান্ডো’ বইগুলোতে উঠে এসেছে একজন কম্যান্ডোর বাস্তব অভিজ্ঞতা, মানসিক চাপ এবং সীমান্ত জীবনের নানা অজানা দিক।
advertisement
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে থেকেই আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সরব ছিলেন দীপাঞ্জন। পরবর্তীতে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন। রাজনৈতিক ময়দানে তাঁর মূল বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে ‘নিরাপত্তা’ ও ‘জাতীয় স্বার্থ’। বিভিন্ন সময় তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষেত্র।
আরও পড়ুনঃ মুখে ‘এই’ পরিবর্তন দেখলে সাবধান! মারণ কোলন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে, আজই ডাক্তার দেখান
শ্রীরামপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই এলাকা একদিকে পুরনো শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা এই তিনটি ইস্যু ভোট রাজনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলছে। অতীতে একাধিকবার রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী হওয়ায় এই কেন্দ্রের ফলাফল সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে, যা একে হাই-প্রোফাইল আসনে পরিণত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীপাঞ্জন চক্রবর্তীর মতো প্রাক্তন নিরাপত্তা আধিকারিককে প্রার্থী করে বিজেপি একদিকে নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে আনতে চাইছে, অন্যদিকে একটি ভিন্নধর্মী প্রার্থীর মাধ্যমে ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল নিয়েছে। তাঁর সেনা পটভূমি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিশেষ করে সেই সব ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে, যারা আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেন। সব মিলিয়ে, উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং একজন প্রাক্তন কম্যান্ডোর অভিজ্ঞতা বনাম প্রচলিত রাজনৈতিক শক্তির মুখোমুখি সংঘর্ষ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন নজর, এই নতুন সমীকরণে শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকবে উত্তরপাড়া।






