TRENDING:

East Bardhaman News: থার্মোকল, কাগজের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে শালপাতার দিন! আউশগ্রামে বন্ধ সরকারি কারখানা

Last Updated:

East Bardhaman News: আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। থার্মোকল, কাগজের প্লেটের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার চিরচেনা শালপাতার থালা। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে বন দফতরের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সরকারি শালপাতার প্লেট তৈরির কারখানাগুলি আজ তালাবন্ধ।

impactshort
ইমপ্যাক্ট শর্টসলেটেস্ট খবরের জন্য
advertisement
আউশগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: নস্টালজিয়ার গন্ধ মাখা শালপাতা, যার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল গ্রামবাংলার অসংখ্য স্মৃতি, আবেগ আর জীবনসংগ্রামের গল্প। এক সময় বিয়েবাড়ির ভোজ মানেই শালপাতার থালায় গরম ভাত, ভিন্ন স্বাদের তরকারি আর আত্মীয়স্বজনের হাসি আড্ডা। শালপাতার থালায় খাবার খাওয়া ছিল শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, ছিল এক আলাদা অনুভূতি, এক আলাদা সংস্কৃতি।
advertisement

সত্তর-আশির দশকে শালপাতার থালা ছাড়া বিয়েবাড়ির কথা কল্পনাই করা যেত না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চেনা ছবিটা আজ প্রায় মুছে যেতে বসেছে। আধুনিকতার স্রোতে, থার্মোকল আর কাগজের প্লেটের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের চিরচেনা জীবিকা। এক সময় জঙ্গল থেকে শালপাতা কুড়িয়েই যাঁদের সংসার চলত, সন্তানরা মানুষ হত, আজ তাঁদের হাতে আর কাজ নেই। পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ব্লকে বনদফতরের উদ্যোগে গড়ে ওঠা সরকারি শালপাতার প্লেট তৈরির কারখানাগুলিও আজ তালাবন্ধ।

advertisement

আরও পড়ুনঃ গরু চড়াতে গিয়ে যমের মুখোমুখি! বৃদ্ধকে শুঁড়ে তুলে আছড়ে আছড়ে মারল বুনো হাতি, বাঘমুন্ডিতে তুমুল আতঙ্ক

ভাল্কি অঞ্চলের ডোমবাঁধি এবং অমরপুর অঞ্চলের আমজুরুলিয়া এই দুই এলাকায় আদিবাসীদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে কারখানা গড়ে তুলেছিল বনদফতর। বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যদের কাজ দেওয়া হয়েছিল সেখানে। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ডোমবাঁধিতে গড়ে ওঠা কারখানায় সেলাই মেশিন থেকে শুরু করে প্লেট তৈরির আধুনিক মেশিন বসানো হয়েছিল। বহু আদিবাসী পরিবার সেখান থেকেই রুজি রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছিলেন। আজ সেই কারখানাগুলিতে ঝাঁপ পড়ে রয়েছে। ঘরের ভিতরে পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার মেশিন। কেউ পেশা বদল করে দিনমজুর হয়েছেন, কেউ অন্যের দোকানে খেটে সংসারের হাল ধরছেন। অনেক মহিলা আবার বাধ্য হয়ে কৃষিকাজেই ফিরে গিয়েছেন।

advertisement

View More

আরও পড়ুনঃ স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝাড়গ্রামে দুর্ঘটনার কবলে যাত্রীবাহী বাস! অল্পের জন্য রক্ষা, যমের মুখ থেকে ফিরলেন যাত্রীরা

কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের কথায়, শালপাতার প্লেট তৈরি করে আর সংসার চলছে না। জঙ্গল থেকে দু’হাজার পিস শালপাতা সংগ্রহ করতে মজুরি লাগে প্রায় ৮০০ টাকা। সেলাই বাবদ খরচ ১৩০ টাকা, মেশিনে প্লেট বানাতে আরও ১০০ টাকা। তার সঙ্গে যোগ হয় টোটো ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল, সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১,১৩০ টাকা। অথচ বাজারে সেই দু’হাজার পিস শালপাতার প্লেট বিক্রি করে আদিবাসীরা পান মাত্র ৭৫০ থেকে বড়জোর ৯৫০ টাকা। লোকসানের এই অঙ্ক কাঁধে নিয়ে আর কেউ কারখানা চালাতে রাজি নন।

advertisement

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

ডোমবাঁধি গ্রামের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ টুডু আক্ষেপের সুরে বলেন, “লোকসান করে কতদিন আর চলবে? বনদফতর যদি আমাদের কলকাতার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করত, তাহলে হয়তো আবার এই পেশাটা বাঁচানো যেত।” সুজাতা কোঁড়া ও রবিনা কিস্কুদের চোখেও আজ শুধুই হতাশা। তাঁদের কথায়, “এক সময় জঙ্গল থেকে পাতা কুড়িয়েই ছেলে-মেয়েদের মানুষ করেছি। আজ বাজারে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় থার্মোকল আর কাগজের প্লেট মিলছে। শালপাতার সেই আবেগ আর কদর সবই অতীত।”

advertisement

সেরা ভিডিও

আরও দেখুন
ঝড়ে-জল-শিলাবৃষ্টিতেও ঝরবে না একটাও মুকুল, আমের ভারে ভাঙবে গাছের ডাল, সহজ পদ্ধতি জানুন
আরও দেখুন

পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা জানান, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট রেঞ্জারদের সঙ্গে কথা বলে উদ্যোগ নেব।” এক সময় যে শালপাতা ছিল জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের জীবনের অবলম্বন, আজ সেই শালপাতাই হারিয়ে যেতে বসেছে আধুনিকতার ভিড়ে। বনদফতরের উদ্দেশ্য ছিল উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে শালপাতার প্লেটে নতুন রূপ দেওয়া, সৌন্দর্যায়ন করা। কিন্তু সেই আধুনিকতার ঢেউতেই আজ অস্তিত্বের সংকটে আদিবাসীদের চিরাচরিত জীবিকা। প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া হয়তো আর ফিরবে না শালপাতার সেই সবুজ দিন, হারিয়ে যাবে জঙ্গলমহলের এক টুকরো ঐতিহ্য, এক টুকরো আবেগ।

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
East Bardhaman News: থার্মোকল, কাগজের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে শালপাতার দিন! আউশগ্রামে বন্ধ সরকারি কারখানা
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল