জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর নাম অনন্যা সাহা। তাঁর আসল বাড়ি কেতুগ্রামের চাকটা এলাকায়। তবে পড়াশোনার সুবিধার্থে সে বর্তমানে কাটোয়ার কাঠগোলা পাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকে। এ বছর কাটোয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে সে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। নিয়মমতো তার সিট পড়েছিল কাটোয়ার ভারতী ভবন স্কুলে। আজ শুক্রবার ছিল উচ্চমাধ্যমিকের বায়োলজি পরীক্ষা। অন্যান্য দিনের মতোই নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিল অনন্যা। কিন্তু পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপত্তি ঘটে। আচমকাই প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয় তাঁর। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয় যে, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরীক্ষা কেন্দ্রে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। এই ঘটনায় মুহূর্তে তীব্র চাঞ্চল্য এবং উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে।
advertisement
তবে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মুহূর্তমাত্র সময় নষ্ট করেননি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মীরা। তড়িঘড়ি অনন্যাকে উদ্ধার করে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তৎপরতায় দ্রুত তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা পাওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ বাদে তাঁর জ্ঞান ফেরে এবং সে কিছুটা সুস্থ বোধ করে। জ্ঞান ফেরার পরেই নিজের অসম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে অনন্যা। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখেন এবং তাঁকে পর্যবেক্ষণে রেখে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেন।
কাটোয়া ভারতী ভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোজ মিস্ত্রি বলেন, পরীক্ষা দিতে দিতেই ওই ছাত্রী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অবজারভারের সহযোগিতায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখন ওই ছাত্রী মোটামুটি কিছুটা সুস্থ, হাসপাতাল থেকেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপাতত অনন্যা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। তাঁর এই মনের জোরকে কুর্নিশ জানিয়েছেন হাসপাতাল ও স্কুলের সকলেই।






