ছোটবেলা থেকেই কবিতা লেখার প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। অধ্যাপক বাবার কাছ থেকেই তিনি সাহিত্যের প্রতি অনুপ্রেরণা পান। তাম্রলিপ্ত মহাবিদ্যালয় থেকে ইংরেজি নিয়ে স্নাতক পাশ। এরপর বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপর শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন।
আরও পড়ুনঃ পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে নিরাপত্তা জোরদার, সিসিটিভি-র চাদরে মোড়া হল শহর, ২৪ ঘণ্টা পুলিশের নজরদারি
advertisement
আড়াই দশক ধরে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পড়িয়ে চলেছেন ছাত্রছাত্রীদের। তবে শিক্ষকতা জীবনই তাকে এক গভীর সমস্যার মুখোমুখি করেছে। ক্লাসে পড়ানোর সময় তিনি লক্ষ্য করেন, অনেক ছাত্রছাত্রী সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। জটিল ব্যাকরণ তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। ফলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এই বিষয়টি তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন নতুনভাবে পড়ুয়াদের সাহিত্যে শেখানো দরকার। সহজ ভাষায় বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। সাহিত্যকে আরও মজাদার করে তুলতে হবে। জটিল ব্যকরণকে পড়ুয়াদের মতো করে লিখতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন পথচলা। কলমই হয়ে ওঠে তাঁর প্রধান শক্তি।
পড়ুয়াদের সাহিত্য অনুরাগী করতে তিনি লিখতে শুরু করেন একের পর এক বই। জটিল ব্যাকরণকে তিনি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। সাহিত্যের কঠিন বিষয়গুলোও সহজভাবে তুলে ধরেন। তাঁর লেখা বই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বাংলার বেশ কয়েকটি নামী প্রকাশনী থেকে তাঁর বই প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য তিনি লিখেছেন ‘ইংলিশ সাথী’। আবার ইংরেজি শেখার গুরুত্ব নিয়ে লিখেছেন ‘দ্যা পাওয়ার অফ ইংলিশ’।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শুধু ইংরেজি ভাষা নয়, বাংলা ভাষার প্রতিও তাঁর সমান আগ্রহ। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তিনি লেখার মধ্যে তুলে ধরেন। তবে তাঁর লেখার ভাষা সবসময় সহজ। কঠিন শব্দ বা জটিল ব্যাখ্যা তিনি এড়িয়ে চলেন। তাঁর লক্ষ্য একটাই, পড়ুয়ারা যেন সহজভাবে বিষয়টি বুঝতে পারে। আজকের সময়ে অনেক তরুণ-তরুণী সাহিত্যচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই সময় অমিতেশ দাসের মতো শিক্ষকরা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছেন। তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা সত্যিই কুর্নিশ যোগ্য।





