প্রথমে স্থানীয় স্তরে প্রতিভা অর্জন করেন কানাইলালবাবু। এরপর ধীরে ধীরে জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যান তিনি, বাংলা টেলিভিশন থেকে রেডিও সর্বত্র কাজ করেছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা তবলা বাজাতে পারেন এই প্রবীণ তবলা বাদক। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে প্রতিটি তালের ছন্দ।
advertisement
ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি গভীর টান ছিল কানাইলাল দাসের। গ্রামের পরিবেশই তাঁর প্রথম মঞ্চ। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তবলা বাজিয়ে সকলের নজর কেড়েছিলেন। ধীরে ধীরে আশেপাশের এলাকায় তাঁর প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তাঁকে অনুষ্ঠানে ডাকতে শুরু করেন। সেই সময়ে কোনও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। তবুও নিজের চেষ্টা আর অনুশীলনের জোরে তিনি এগিয়ে গিয়েছেন। প্রতিদিন নিয়ম করে রেওয়াজ করতেন। সেই পরিশ্রমই আজ তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কানাইলালবাবুর পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে। জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শুরু করেন তিনি। বাংলা টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর তবলার সুর শোনা গিয়েছে। আবার রেডিওতেও একাধিকবার অনুষ্ঠান করেছেন তিনি। তাঁর বাজনার মধ্যে আলাদা মাধুর্য রয়েছে। শ্রোতারা মন দিয়ে শোনেন তাঁর প্রতিটি পরিবেশনা। অনেক নবীন শিল্পীর কাছে তিনি অনুপ্রেরণা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
সব মিলিয়ে, আজও বয়সকে তুচ্ছ করে তবলার সঙ্গেই দিন কাটান এই তবলা বাদক। শরীর হয়তো আগের মতো সাড়া দেয় না, তবুও মন থেকে একটুও কমেনি আগ্রহ। নতুন প্রজন্মকে তবলা শেখাতেও আগ্রহী কানাইলালবাবু। তাঁর মতে, শেখার কোনও শেষ নেই। যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন তবলার সঙ্গেই থাকতে চান। তাঁর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং সঙ্গীতের প্রতি ভালবাসা সত্যিই প্রশংসনীয়। গ্রামের মাটিতে জন্ম নিয়ে আজ তিনি হয়ে উঠেছেন রাজ্যের সঙ্গীত জগতের এক অনন্য প্রেরণা।





