শেষ কয়েক বছরে চাহিদা ব্যাপক বাড়লেও, এই কারখানাগুলি প্রায় ৩০ বছরের পুরনো। কারখানার কারিগরদের দাবি, পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এই আবির ত্বকের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। কীভাবে তৈরি হয় এই আবির? কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আবির তৈরির প্রধান উপকরণ হল অ্যারারুট। কোনও প্রকার ক্ষতিকারক রাসায়নিক ছাড়াই এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি হয় এই ভেষজ রঙ। প্রথমে অ্যারারুটকে নির্দিষ্ট রঙের সঙ্গে মিশিয়ে ভাল করে ফুটিয়ে নেওয়া হয়। ফোটানোর পর পাতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলে মাড়াইয়ের কাজ। শোধন, মাড়াই হয়ে গেলে সেই মিশ্রণ কড়া রোদে শুকোতে দেওয়া হয়। শেষ ধাপ, রোদ থেকে তুলে চালুনির সাহায্যে ভাল করে চেলে নেওয়া হয় মিহি আবির।
advertisement
এরপর প্যাকেটজাত করে তা পৌঁছে যায় পাইকারি বাজারে। তমলুকের একটি কারখানায় বর্তমানে ১০টি ভিন্ন রঙের ভেষজ আবির তৈরি হচ্ছে। কারখানার ম্যানেজার চন্দন কুমারের কথায়, “দোলের প্রায় দু’মাস আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। এই সময় দিন-রাত এক করে কাজ চলে। বছরের অন্যান্য সময় চাপ কম থাকলেও, এখন কারিগরদের দম ফেলার সময় নেই।” ভেষজ আবির নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার আয়ুষ বিভাগের স্বাস্থ্য অফিসার প্রকাশ হাজরা বলেন, “কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি আবির থেকে রঙের উৎসবে ভেষজ আবির এই শরীরের পক্ষে উপকারী। ভেষজ আবির ত্বকের ক্ষতি করে না।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে ভেষজ আবির হলেও চোখে যাতে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।” পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে তমলুকের কারখানা থেকে ভেষজ আবির। শেষ কয়েক বছর দোলের সময় বাজার ঘুরলে দেখা যাচ্ছে, সাধারণ রঙের তুলনায় ভেষজ আবিরের দাম কিছুটা বেশি হলেও মানুষ সচেতনভাবেই এটি বেছে নিচ্ছেন। রাসায়নিক আবিরে ত্বকের অ্যালার্জি বা চোখের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, কিন্তু ভেষজ আবিরে সেই ভয় নেই। ফলে শেষকয়েক বছরে তমলুকের এই কুটির শিল্পটি নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছে। রঙিন উৎসবের প্রস্তুতিতে এখন সরগরম রূপনারায়ণের তীরের এই শহর। কারখানায় দিনরাত এক করে শ্রমিকেরা ভেষজ আবির তৈরি করতে ব্যস্ত।





