শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭১ সালে শুরু হয় তাঁর শিক্ষকতা জীবন। ধীরে ধীরে দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় শিক্ষক। ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং-এর বসন্তপুর ঝাড়েশ্বর বাণীভবনের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রীদের নৈতিক শিক্ষায় তিনি ছিলেন অগ্রণী। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১০ সালে তিনি পান জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার।
advertisement
তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিলের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেন তিনি। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি প্রণব কুমার পট্টনায়ক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি মন দিয়েছেন গবেষণায়। বিশেষ করে চৈতন্য জীবনী নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এই গবেষণার জন্য ২০২৩ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেন তিনি। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিসরে স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়াও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে লিপিকা সাহিত্য পুরস্কার, দোনাচার্য স্মৃতি পুরস্কার-সহ একাধিক সম্মান। দীর্ঘ চার দশকের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তিনি গ্রন্থের মাধ্যমে তুলে ধরতে চান নবীন প্রজন্মের হাতে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
একের পর এক বই লিখে চলেছেন তিনি নিরলসভাবে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সংগীতেও তাঁর পারদর্শিতা চোখে পড়ার মতো। এই বয়সেও তাঁর কণ্ঠে গান শুনলে বিস্মিত হতে হয়। একটার পর একটা গান গেয়ে তিনি যেন যুবকদেরও হার মানান। অবসর জীবনেও শিক্ষা, সাহিত্য ও সংগীতকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন প্রণব কুমার পট্টনায়ক।





