এই গবেষকের নাম বীরকুমার শী। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তেঁতুলিয়া ষড়রং এন.এন. হাই স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে ২০২২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। গণিত বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং স্নাতকোত্তর স্তরের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করার পর শিক্ষকতায় যোগ দেন। যদিও তাঁর লেখালেখির হাতেখড়ি আরও আগে। অষ্টম শ্রেণি থেকেই গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে নিজের বিষয়ভিত্তিক বইও প্রকাশ করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ছিল তাঁর নেশা।
advertisement
আরও পড়ুন: কেউ ফুলকপি, তো কেউ আম, প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে পুষ্টির বার্তা! খুদেদের কাণ্ড দেখে থ নেটিজেনরা
কিন্তু এই সাহিত্য চর্চা মোড় ন্যায় এক নতুন গবেষণায়। তেঁতুলিয়া গ্রামে একদিন গাছের নিচে পড়ে থাকা কিছু পাথরের দিকে তাঁর নজর যায়। লক্ষ্য করেন, সেই পাথরগুলিকে কেন্দ্র করেই নিয়মিত পুজো হচ্ছে। কৌতূহল থেকে তিনি জানতে চান, সেই পাথরগুলি কোথা থেকে এল। কেন মানুষ সেগুলিকে দেবতা ভেবে পুজো করছেন। সেই পাথরের গায়ে ফুটে ওঠা অবয়ব কি কাকতালীয়, না কি কোনও ঐতিহাসিক ইঙ্গিত বহন করছে, কোন শিলার পাথর, ভারতীয় বা ভিনদেশি কোনও মূর্তিশৈলীর প্রভাব রয়েছে কি না, এই সমস্ত প্রশ্নই তাঁকে গবেষণার পথে টেনে আনে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই গবেষণার ফলস্বরূপ তিনি একাধিক প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রবন্ধের ‘গাছের নিচে দেবতা’। অবসরের পরও থেমে থাকেননি তিনি। আজও এগরা ও তার আশপাশের গ্রামে গ্রামে ঘুরে পাথর সংগ্রহ করেন। সেগুলির ছবি তোলেন। তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেন। নিজের গবেষণার মাধ্যমে আঞ্চলিক ইতিহাস ও লোকবিশ্বাসের নতুন দিক তুলে ধরাই তাঁর লক্ষ্য। নিরলস পরিশ্রমে তিনি একের পর এক গ্রন্থ লিখে চলেছেন। তাঁর এই কাজ স্থানীয় ইতিহাসচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করছে।





