পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লকের মথুরা এলাকা। এই অঞ্চলের প্রায় ৪০টি পরিবার আজও বাঁশের শিল্পকে নিজেদের জীবিকার মূল ভরসা করে রেখেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানকার মানুষ বাঁশ কেটে, বুনে তৈরি করছেন নানান নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে বাঁশের কুলো, চালা, চালুনি, খাঁচা, চাটাই, ঝুড়ি। মাছ ধরার জন্য বানানো হচ্ছে চাঁই। ছোটদের জন্য তৈরি হচ্ছে দোলনা। এই সব কাজের মধ্যেই গড়ে উঠেছে তাদের সংসার। এই শিল্পই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।
advertisement
তবে সময় বদলেছে। প্লাস্টিকের যুগে বাঁশের জিনিসের কদর অনেকটাই কমেছে। বাজারে সস্তা প্লাস্টিকের সামগ্রী সহজলভ্য। ফলে বাঁশের শিল্পীরা পড়েছেন বড় চাপে। তার ওপর বেড়েছে বাঁশের দাম। বেড়েছে উৎপাদন খরচ। তবু হার মানেননি তারা। বরং নতুন পথ খুঁজেছেন। বিক্রি বাড়াতে নতুনভাবে উদ্যোগী হয়েছেন। নিত্যনতুন ডিজাইনের সামগ্রী বানাতে শুরু করেছেন শিল্পীরা। শুধু ব্যবহার্য জিনিস নয়, এখন তারা তৈরি করছেন ঘর সাজানোর সৌখিন সামগ্রীও। যা দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনই টেকসই। অনেক ক্ষেত্রেই এই বাঁশের জিনিস প্লাস্টিককেও টেক্কা দিচ্ছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
শিল্পীদের পরিবারের ছোট সদস্য থেকে শুরু করে মহিলারাও সমানভাবে হাত লাগাচ্ছেন। কেউ বাঁশ কাটছেন, কেউ বুনছেন, কেউ আবার নকশা তৈরি করছেন। প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রমেই টিকে আছে এই শিল্প। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাঁশের শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার। হারিয়ে যাওয়ার যুগেও গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার যে কঠিন লড়াই চলছে, তা সত্যিই কুর্নিশ জানানোর মতো। এই লড়াই শুধু জীবিকার নয়, এক শতাব্দীপ্রাচীন সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।





