প্রতি বছর মাকুড়ি সপ্তমীর পরদিন থেকে অনুষ্ঠিত এই মেলাটি পূর্ব বর্ধমান জেলার মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন মেলা হিসেবে পরিচিত। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, বীরভূম, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেও অসংখ্য বৈষ্ণব ভক্ত এখানে উপস্থিত হন, বসে একাধিক আখড়া। মেলাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকা জুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মেলার নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের তরফে পানীয় জল ও আলোর সুব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ চা বাগানে দাউ দাউ করে আগুন! মেটেলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, তুমুল চাঞ্চল্য এলাকায়
মেলায় এসে সন্দীপ দে নামের এক দর্শনার্থী বলেন, “এই প্রথম এই মেলায় এলাম। শুনেছিলাম জেলার অন্যতম বড় মেলা। দেখে বুঝতে পারলাম এটা সত্যিই অনেক বড় মেলা। প্রচুর ভিড় হয়েছে এবং বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যাচ্ছে।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈষ্ণব সাধক গোপাল দাস বাবাজিই এই মেলার পত্তন করেন। কথিত আছে, ১১৭৬ বঙ্গাব্দের ভয়াবহ মন্বন্তরের সময় তিনি বীরভূমের কেঁদুলি পর্যন্ত মাধুকরী করতে গিয়ে ফিরে এসে দধিয়া বৈরাগ্যতলায় অন্ন মহোৎসবের আয়োজন করেন। প্রায় এক মাস ধরে অনাহারী ও অর্ধাহারী মানুষদের জন্য এই অন্নদান চালু ছিল। সেই স্মৃতিকে স্মরণ করতেই আজও মাকুড়ি সপ্তমীতে ভক্তরা এখানে রান্না করে প্রসাদ গ্রহণ করেন।
ইতিহাস বলছে, ১১৪৩ বঙ্গাব্দে আউলিয়া সম্প্রদায়ের সন্তরাম আউলিয়ার কাছে দীক্ষা নিয়ে গোপাল দাস বাবাজি দধিয়া গ্রামে আসেন এবং রঘুনাথ জিউ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্ধমানের মহারাজা তিলকচাঁদ মহতাব তাঁর সাধনপীঠের জন্য ৬৯ বিঘা জমিও দান করেছিলেন। গোপাল দাস আশ্রম কমিটির সেক্রেটারি শ্যামাশিষ দাস বলেন, “বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ থেকেও বহু মানুষ আসেন এই মেলায়। এখানে অন্ন প্রসাদের ব্যবস্থা রয়েছে, প্রচুর আখড়া রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কথিত আছে, একসময় এই মেলায় গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া এমনকি ঘোড়া ও হাতিরও বেচাকেনা হত। আজও কাঠের আসবাব, লোহার সামগ্রী, মাটির বাসন সহ গৃহস্থালির নানা জিনিস পাওয়া যায়। পরম্পরা ও বিশ্বাসের টানে দধিয়া বৈরাগ্যতলার এই মেলা আজও তার জনপ্রিয়তা অটুট রেখেছে। শনিবার পর্যন্ত এই মেলা চলবে বলেই জানা গিয়েছে।





