তাঁর বাবার মুখে শোনা, ১৯১১ সালেও শহরের বিভিন্ন স্কুলে সরস্বতী পুজো হত। তখন মূলত বিদ্যার সঙ্গে যুক্তরা এই পুজোর আয়োজন করতেন। সেই সময় কালনা শহরে মহারাজা হাই স্কুল ও হিন্দু গার্লস স্কুলে নিয়মিত সরস্বতী পুজো অনুষ্ঠিত হত। এছাড়াও কিছু চতুষ্পাঠী ও বনেদি বাড়িতে বই দিয়ে পুজোর রীতি চালু ছিল। তৎকালীন বর্ধমান জেলায় প্রায় ২০০ টি চতুষ্পাঠী ছিল। তার মধ্যে কালনা শহরেই ছিল ৫৭টি। একসময় কালনার টোল ও চতুষ্পাঠীগুলিতে শুরু হওয়া সরস্বতী পুজোই পরবর্তীকালে কালনা শহরে অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুজো হিসাবেই মান্যতা পেয়ে যায়।
advertisement
আরও পড়ুন: দক্ষিণে বাড়ছে পারদ, কনকনে ঠান্ডার কামড় উত্তরবঙ্গে! আবহাওয়ায় বড় আপডেট দিল IMD, পর্যটকরা চরম খুশি
তবে তখন প্রতিমা পুজোর প্রচলন ছিল না, সরস্বতী দেবীর ছবি ও বই দিয়েই পুজো হত। বারোয়ারী সরস্বতী পুজোর সূচনা হয় ১৯৪৭-৪৮ সালের দিকে। কালনার কিছু যুবকের উদ্যোগে অগ্রগামী ক্লাব, বীণাপাণি ক্লাব-সহ কয়েকটি সংগঠন প্রথম বারোয়ারী পুজো শুরু করে। তার আগে কালনায় বারোয়ারী সরস্বতী পুজোর কোনও নজির ছিল না। সেই সময় তিন-চারটি ক্লাব বড় আকারে পুজো করত। বিদ্যুৎ না থাকায় গ্যাসের আলো বা হ্যাঁচাকের আলোতেই পুজো হতো এবং সন্ধ্যার পর ভিড়ও তুলনামূলক কম থাকত। পরবর্তীতে ১৯৫৩-৫৪ সাল নাগাদ কালনা বাজার, সেনপাড়া ও সিদেশ্বরী পাড়ায় একের পর এক ক্লাব গড়ে ওঠে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
ধীরে ধীরে পুজোর জাঁকজমক বাড়তে থাকে। এক সময় শোভাযাত্রায় হ্যাঁচাকের আলো, ডগর ও চরকি, তুবড়ির মতো বাজি ছিল মূল আকর্ষণ। সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। আজ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে থিম, আলোকসজ্জা ও শিল্পভাবনায় অনন্য হয়ে উঠেছে কালনার সরস্বতী পুজো। বর্তমানে কালনা শহরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি সরস্বতী পুজো অনুষ্ঠিত হয়, যার অনেকগুলির বাজেট লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতিটি ক্লাবই নতুনত্বের চমকে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। এভাবেই ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে কালনার সরস্বতী পুজো আজ এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।





