স্বচ্ছ ভারত মিশন (এসবিএম) প্রকল্পের আওতায় পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল থেকে প্রায় ৬৮ লক্ষ ১৯ হাজার ৩০৮ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় ৫০ কিউবিক মিটার গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যান্ট। পাশাপাশি প্রায় ৯ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৬৪ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয় একটি কিচেন শেড। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ ছিল এলাকার গবাদি পশুর গোবরকে কাজে লাগিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা এবং তা ব্যবহার করে স্থানীয় দুধ উৎপাদকদের স্বনির্ভর করা। দেনুড় অঞ্চলের মাত্র সাতটি গ্রামেই রয়েছে কয়েক হাজার গবাদি পশু। এলাকার বহু পরিবার দুধ থেকে ছানা, খোয়া ও ক্ষীর তৈরি করে মেমারি সহ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন। সেই কথা মাথায় রেখেই গলাতুন ও ধেনুয়া গ্রামের প্রায় ১২০ জন চাষিকে নিয়ে গোবর সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
advertisement
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্ল্যান্টে উৎপাদিত বায়োগ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে কিচেন শেডে পৌঁছানর কথা ছিল। সেখানে স্থানীয় চাষিরা দুধ নিয়ে এসে সহজেই খোয়া ও ক্ষীর তৈরি করতে পারতেন। এতে একদিকে যেমন জ্বালানির খরচ কমত, অন্যদিকে গ্রামে ছড়িয়ে থাকা গোবরও কাজে লাগত এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হত। প্রথম দিকে প্রকল্পটি ভাল ভাবেই চললেও পরে বিভিন্ন কারণে তা ধীরগতি প্রাপ্ত হয়ে পড়ে। গ্রামবাসী অরূপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, “আমরা সকলেই চাইছি যেন এই প্রকল্প পুনরায় চালু হয় এবং শুধু এখানেই নয় যেন প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি পয়েন্ট যায়। এই প্রকল্প চালু হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদেরও অনেক সুবিধা হবে।” বর্তমানে প্ল্যান্টটি প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও উদ্যোগ নেওয়া হলে এই প্রকল্প আবারও চালু করা সম্ভব। তাঁদের মতে, বায়োগ্যাস প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত হলে গোটা পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ বিকল্প জ্বালানির সুবিধা পেতে পারেন এবং স্থানীয় দুগ্ধ ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে। দেনুড় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মকদম হোসেন শেখ বলেন, “এটাকে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।” বাসিন্দাদের আশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে মন্তেশ্বরের এই ‘গোবর্ধন’ প্রকল্প আবারও এলাকার উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।





