চাষিদের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০০ বিঘা চাষযোগ্য জমি জলের তলায় ডুবে রয়েছে। এই জমিগুলিতে ধান, পেঁয়াজ, লঙ্কা সহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়েছিল। বিশেষ করে এই বছর পেঁয়াজের চাষ তুলনামূলক বেশি ছিল। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার মুখেই অকালবৃষ্টির ধাক্কায় কার্যত সর্বনাশ হয়ে গেল।
advertisement
বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ এক হাঁটু জলে নেমে চাষিদের ফসল তুলতে হচ্ছে। অনেক কষ্টে জলে ডুবে থাকা ফসল উদ্ধার করে মাথায় করে বাড়ি নিয়ে যেতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে উৎপাদিত ফসলের গুণগত মানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় চাষিরা জানিয়েছেন, অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন। কেউ আবার সোনা বন্ধক রেখে গোল্ড লোন নিয়ে চাষে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু এই অকালবৃষ্টির জেরে তাঁদের সব আশা কার্যত ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে।
চাষি আজহারুল শেখ ও মাজহারুল শেখদের অভিযোগ, তাঁদের এলাকায় প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই একই সমস্যা দেখা দেয়। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফোরে নদী ও ব্রহ্মাণী নদীর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জলনিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে জল জমে যায় এবং বারবার প্লাবিত হয় ফসলের মাঠ। তাঁদের আরও অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। কৃষি দফতরের পক্ষ থেকেও তেমনভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়নি বলে দাবি চাষিদের।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই পরিস্থিতিতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে সরকারের কাছে দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পূর্ব বর্ধমান জেলা কৃষি দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জল নামলে তারপর পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হবে। চাষিদের যাতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।





