নতুন আবিষ্কৃত প্রথম প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে নামালিকাস্টিস সোলেনোটোগনাথা (Namalycastis solenotognatha)। এই নামটি গ্রিক শব্দ সোলেনোটোস (solenotos) এবং গ্নাথা (gnatha) থেকে এসেছে। যার অর্থ নালিযুক্ত চোয়াল। এই প্রজাতির কেঁচোর চোয়ালে একাধিক সূক্ষ্ম নালি রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যই তাদের অন্য প্রজাতির থেকে আলাদা করে চিহ্নিত করে। নামালিকাস্টিস সোলেনোটোগনাথা মূলত অত্যন্ত উন্মুক্ত কাদামাটির চর এলাকায় বাস করে। এরা দূষণ সহনশীল প্রজাতি। সালফাইড-সমৃদ্ধ দুর্গন্ধযুক্ত এবং জৈব পদার্থে ভরা পলিতেও এরা সহজেই টিকে থাকতে পারে। পচে যাওয়া ম্যানগ্রোভ কাঠ, গাছের বাকল, নারকেলের ছোবড়া এবং শক্ত কাদার মধ্যেই এদের বেশি দেখা যায়।
advertisement
আরও পড়ুন: কাঁচা কাজু থেকে ধবধবে সাদা বাদাম— জানুন কীভাবে হয় কাজুর গ্রেডিং ও রোস্টিং, দেখুন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
দ্বিতীয় নতুন প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে নেরেইস ধৃতিআই (Nereis dhritiae)। এই নামকরণ করা হয়েছে ড. ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মানে। তিনি জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার প্রথম মহিলা ডিরেক্টর। প্রাণী শ্রেণিবিন্যাসে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই এই নামকরণ করা হয়েছে। এই প্রজাতির কেঁচো মূলত বালুকাবেলায় কাঠের ডক পাইলের মধ্যে বাস করে। জোয়ারের সময় এই এলাকা সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যায়। প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকার ক্ষমতা এই প্রজাতির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
আরও পড়ুন: ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র আগেই চড়া দাম! এক পিস তাজা লাল গোলাপ কত দামে বিক্রি হচ্ছে? জানুন
গবেষকদের মতে, নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতিগুলি এমন উপকূলীয় অঞ্চলে পাওয়া গেছে, যেগুলি মানুষের কার্যকলাপ এবং দূষণের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। সেই কারণেই ভবিষ্যতে এই কেঁচোগুলি উপকূলীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বায়ো-ইন্ডিকেটর হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিষয়ে আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এই গবেষণায় অংশ নিয়েছেন জেডএসআই-এর এসচুয়ারিন বায়োলজি রিজিওনাল সেন্টারের জ্যোৎস্না প্রধান ও ড. অনিল মহাপাত্র। পাশাপাশি রয়েছেন মেক্সিকোর এনসেনাডা-স্থিত সিআইসিইএসই-এর সামুদ্রিক পরিবেশবিদ্যা বিভাগের গবেষক ড. তুলিও এফ. ভিলালোবোস-গুয়েরেরো। গবেষক দলের দাবি, উত্তর বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার একটি নতুন দিশা খুলে দিল।






