কয়েকদিন আগে একটি ‘লম্বু’ জাতীয় বিস্কুট কিনে খেয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের হাটশিমুল এলাকার বাসিন্দা প্রকাশ চৌধুরী। বিস্কুট খাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় গলায় অস্বস্তি। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি তিনি। ভেবেছিলেন, গলায় কিছু আটকে আছে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু অস্বস্তি না কমায় চার দিন পর তিনি বর্ধমান মেডিক্যালের নাক-কান-গলা বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসেন। প্রথম এক্স-রে করলে গলার ভিতরে একটি বস্তু আটকে আছে বলে বোঝা যায়। এরপর এন্ডোসকপি করে পরীক্ষা করা হলে সেখানে কোন বস্তু পাওয়া যায়নি। তখনই চিকিৎসক অনুমান করেন, বস্তুটি খাদ্যনালী ফুটো করে অন্যদিকে সরে গিয়েছে।
advertisement
রোগীর গলায় আটকে তার
এরপরই চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। পরে থ্রিডি এক্স-রে করে ধরা পড়ে, রোগীর গলায় একটি তার জাতীয় বস্তু আটকে রয়েছে। ১০ মার্চ তিনি ভর্তি হন বর্ধমান মেডিক্যালে। অস্ত্রোপচার করে সেই বস্তু সফলভাবে বের করলেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকেরা।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের নাক–কান–গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঋতম রায় বলেন, প্রথম এন্ডোসকপি করে যখন কিছু পাওয়া যায়নি তখনই অনুমান করি বস্তুটি হয়তো খাদ্যনালী ফুটো করে অন্যদিকে সরে গিয়েছে। কারণ তার জাতীয় বস্তু হলে ঢোক গেলার সঙ্গে সঙ্গে সেটি সরে যায়। অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায় বস্তুটি খাদ্যনালী ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড় (ভার্টিব্রা) ও খাদ্যনালীর মাঝখানে আটকে রয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অসংখ্য স্নায়ু ও গুরুত্বপূর্ণ শিরার মাঝখান থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বস্তুটি সফলভাবে বের করে আনা হয়েছে। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি বর্ধমান মেডিক্যালেই ভর্তি রয়েছেন। চিকিসক আরও বলেন, প্রকাশ বাবু যদি আসতে আরও দেরি করতেন কিংবা অস্ত্রোপচারে হতে আরও কিছুটা দেরি হয়ে যেত তাহলে ওই তার থেকে প্রাণ সংশয়ও হতে পারত রোগীর।






