সিংহভাগ হাড়ি তৈরি সম্পন্ন হয়ে গেছে। এখন শুধু বিক্রির অপেক্ষা। কুমোর পাড়ার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই সারি সারি করে সাজানো মাটির হাঁড়ি। কোথাও আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হচ্ছে। কোথাও আবার রঙের শেষ কাজ চলছে। ব্যবসায়ীরাও আগাম অর্ডার দিতে শুরু করেছেন। যাতে বাজারে কোনও ঘাটতি না থাকে, সেদিকে নজর রাখছেন শিল্পীরা। কারণ এই কয়েকদিনেই নির্ভর করছে সারা বছরের রোজগার।
advertisement
আরও পড়ুন: প্রখর রোদে চড়ছে পারদ! আচমকাই ধেয়ে আসবে কালবৈশাখী? ঝেঁপে নামবে বৃষ্টি! আবহাওয়ার বড় খবর
পহেলা বৈশাখ থেকে মাসব্যাপী হিন্দুদের তুলসী তলায় মাটির হাড়ি বা ‘ঝরা’ বেঁধে রাখার রীতি রয়েছে। প্রায় প্রতি বাড়িতেই মাটির হাড়ি কেনা হয়। তাই বছরের শেষ সপ্তাহে প্রচুর বিক্রি হয়। বৈশাখ মাসে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে তুলসী গাছ যেন শুকিয়ে না যায়, সেজন্য মাটির হাড়ির নিচে ছোট ছিদ্র করে তাতে জল ভরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। হাড়ি থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল সারাদিন ধরে তুলসী গাছের গোড়ায় পড়ে। এতে মাটি ঠান্ডা থাকে এবং গাছও সতেজ থাকে।
আরও পড়ুন: কম খরচে কোটিপতি! এই একটি ফসল চাষে মাত্র এক বিঘা জমিতেই লাখ টাকার মুনাফা
সারা বছর বিক্রি না হলেও এই এক মাসেই পুষিয়ে নেন কুমোর পাড়া শিল্পীরা। এক বিক্রেতা বিজয় বেরা বলেন, “সারা বছর মাটির হাড়ির খুব একটা চাহিদা থাকে না এখন। কিন্তু চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই প্রায় প্রতি বাড়িতেই এই মাটির হাড়ি কেনেন। বিক্রি প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। তাই এখন থেকেই কুমোর পাড়ায় ব্যস্ততা তুঙ্গে।” এখন সকলের নজর বিক্রির দিকে। এই সময়টাই তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা। নববর্ষকে ঘিরেই নতুন আশায় বুক বাঁধছেন কুমোর পাড়ার মৃৎশিল্পীরা। বছরের বাকি সময় যতই মন্দা থাকুক, এই এক মাসের বিক্রিই তাদের মুখে হাসি ফোটায়।





