এই মেলায় বিক্রেতার ভূমিকায় থাকে স্কুলের পড়ুয়ারাই। এবছর মোট ৫৫ জন পড়ুয়া মিলিতভাবে ৩২টি স্টল করে। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের বাড়ি থেকে তৈরি করে এনেছিল নানা ধরনের খাবার ফুচকা, মেক্সিকান চাওমিন, ব্রেড রোল, বিরিয়ানি, পকোড়া, মোমো, ঘুগনি, ছানার পায়েস থেকে শুরু করে পেয়ারা মাখা পর্যন্ত। তবে এবছরের খাদ্য মেলায় আলাদা করে নজর কাড়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর পড়ুয়া সৌরমাল্য ব্যানার্জীর মেক্সিকান চাওমিনের স্টল। তার স্টলে রাখা ছিল কুকুরের ছবি দেওয়া একটি অনুদান বাক্স।
advertisement
নিয়ম ছিল ২০ টাকায় ফুল প্লেট ও ১০ টাকায় হাফ প্লেট চাওমিন নেওয়ার পর টাকা দিতে হবে ওই অনুদান বাক্সে। সৌরমাল্যের কথায়, “যে টাকা উঠেছে, তার এক টাকাও আমি নিজের জন্য নেব না। সব টাকা দিয়ে আমার পাড়ার পথকুকুরদের খাওয়াব।” মানবিকতার পাশাপাশি উপস্থিত বুদ্ধিতেও শিক্ষকদের মুগ্ধ করেছে নবম শ্রেণীর পড়ুয়া শুভজিৎ কান্তি। খাদ্য মেলায় সে মসলা মুড়ির স্টল করেছিল। দ্রুত মসলা মুড়ি শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ না হয়ে, স্কুলের আর এক ছাত্র সৌভিক নন্দীর কাছ থেকে ঘুগনি কিনে এনে তাতে নিজের মুড়ির মসলা মিশিয়ে নতুনভাবে বিক্রি করে বাড়তি লাভ করে সে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
তার এই বুদ্ধিমত্তায় রীতিমতো চমকে যান শিক্ষক শিক্ষিকারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন হাসান জানান, “ছাত্রছাত্রীদের বাস্তব জীবনের শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই খাদ্য মেলার সূচনা। এবছর তৃতীয় বর্ষে পা দিল। শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষও এই মেলায় অংশ নেন। ছাত্ররা যে খাবার এনেছিল, সবটাই বিক্রি হয়েছে।” খাবারের স্বাদের পাশাপাশি মানবিকতা ও বাস্তব জীবনের শিক্ষায় ভর করে এবছরের খাদ্য মেলা হয়ে উঠল এক অনন্য দৃষ্টান্ত।





