একদিকে যখন ঘরে ঘরে রকমারি পিঠে বানানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন বাদুড়বাহিত নিপা ভাইরাসের আচমকা আগমনে আশা-নিরাশার দোটানায় পড়ে গিয়েছেন অনেকেই। তবে খেজুর রস থেকে যাঁরা নলেন গুড় বানান, একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তাঁরা বলছেন, ‘অনেকক্ষণ জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। অত সময় রস ফুটলে ভাইরাস কোনওভাবেই থাকতেই পারে না।’
advertisement
তবে এই বিষয়ে চিকিৎসকরা কী বলছেন? আমরা বিশিষ্ট চিকিৎসক অতনু কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও জানাচ্ছেন একই কথা। গাছ থেকে পেড়ে আনা খেজুর রস এই সময়ে না-খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু রস থেকে যে গুড় তৈরি হয় সেটা খাওয়া যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন।
শীতের মরশুম মানেই বাংলার ঘরে ঘরে পিঠে-পুলির আয়োজন। এর অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুর রস থেকে তৈরি নলেন গুড়, পাটালি গুড়। বাকি রাজ্যের সঙ্গে বীরভূমের শহর থেকে শুরু করে গ্রামেগঞ্জে রাস্তার ধারে ধারে অথবা বাজার জুড়ে দেখা যায় গুড়ের মেলা। যেখানে খেজুর গাছের চাষ করা হয়, সেই সব জায়গায় সকাল থেকেই রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরিতে ব্যস্ত বহু মানুষ। তাঁরা শুনেছেন নিপা ভাইরাসের কথা। তাঁদের সবারই ঘুরেফিরে একই কথা, ‘গুড় তৈরির সময় যেভাবে জ্বাল দেওয়া হয়, তাতে বিষও জল হয়ে যাবে।’
তবে ক্রেতাদের নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন গুড়ের উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা। সত্যানন্দ দাস নামে এক উৎপাদক জানান, ‘মকর সংক্রান্তির জন্য প্রচুর গুড় বানিয়ে রেখেছি। সংক্রমণের ভয়ে বিক্রি হচ্ছে না ফলে আমরা বিপদে পড়েছি।’ অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘বিক্রিতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরে কী হবে, জানি না।’ ক্রেতারা জানাচ্ছেন, ফোটানো রস থেকে তৈরি গুড়ে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা নেই। তবুও মনের ভয়ে আপাতত গুড় থেকে দূরে থাকছি।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
রামপুরহাটের বাসিন্দা রাজু মন্ডল বলেন, ‘রস যা জ্বাল দেয়, তার কাছে ভাইরাস-টাইরাস কিছু না!’ আবার বোলপুরের এক গবেষক বলেছেন, ‘খেজুর রস খেলে অসুবিধা হতে পারে কারণ খোলাভাবে সেই রস সংগ্রহ হয়। তবে গুড়ে সমস্যা নেই।’ ঠিক এই পরিস্থিতিতে জেলায় জেলায় সতর্ক রয়েছে স্বাস্থ্য দফতর তথা প্রশাসন।






