মোটা থামের লম্বা দালান, চুন-সুরকি দেওয়াল, কড়ি-বর্গার ছাদ, বয়সের ভারে প্রায় জরাজীর্ণ অবস্থা কিন্তু আজও এই স্কুল যেন বহন করে চলেছে নানা ইতিহাস। স্কুলের প্রতিটি কোণায় কোণায় মিশে আছে ২০৯ বছরের বহু স্মৃতি। ১৮১৭ সালে পথ চলা শুরু হয় এই স্কুলের। প্রথমে রাজবাড়িতে, পরে রানির বাড়িতে স্কুল হয়। সেখান থেকে নতুনগঞ্জে স্কুলটি উঠে আসে ১৮৮২-৮৩ সালে। প্রথমদিকে স্কুলটির নাম ছিল অ্যাংলো ভার্নাকুলার স্কুল।
advertisement
নতুনগঞ্জের ভবনটি তৈরি হয় ১৮৮১ সালে, কাজ শেষ হয় পরের বছর। ওই ভবনে স্কুল উঠে আসার পরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনে কলেজের একটি শাখা চালু হয়। তখন থেকেই নাম হয় রাজ কলেজিয়েট স্কুল। ১৯২৪ থেকে ১৯২৮ সালের মধ্যবর্তী সময়ে, যখন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এক নতুন মোড় নিচ্ছে, ঠিক তখনই বর্ধমানের মাটি ধন্য হয়েছিল দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর পদধূলিতে। কংগ্রেস সেবা দলের প্রচারে বর্ধমানে এসেছিলেন তিনি। সেই সময় বর্ধমানের রাজ কলেজিয়েট স্কুলের মাঠেই একটি সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন নেতাজি।
তারপর থেকেই প্রতিবছর নেতাজির আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে ওই মাঠে আয়োজন করা হয় পড়ুয়াদের নিয়ে অঙ্কন প্রতিযোগিতা। স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক সুব্রত মিশ্র জানান, এই স্কুলের মাঠে এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং কংগ্রেস সেবা দলের সভায় বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি। শুধু নেতাজি নয় বহু বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত, রাসবিহারী ঘোষ, চিত্রাভিনেতা কমল মিত্র-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এমনকি এই স্কুলে প্রায়ই আসতেন ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ও। ২০০৭ সালে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয় বর্ধমান রাজ কলেজিয়েট স্কুলকে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
কালের নিয়মে আজ রাজ কলেজিয়েট স্কুলের দেওয়ালে নোনা ধরেছে, কড়ি-বর্গার ছাদে জমেছে বার্ধক্যের ধুলো। কিন্তু আজও এই স্কুল যেন বহন করে চলেছে নেতাজির স্মৃতি। স্কুলের প্রতিটি কোনায় কোনায় যেন আজও স্পন্দিত হয় দেশপ্রেম আর মেধার গৌরবজ্জ্বল কাহিনি।





