শুরুর দিকে রানী সরকার হাতে করে সেলাই মেশিন চালাতেন। পরে নিজের সুবিধার কথা ভেবে মেশিনে মোটর লাগিয়ে নিয়েছেন, যাতে কাজ করতে আরও সুবিধা হয়। তিনি শুধু নিজের জীবিকা নির্বাহই করছেন না, বরং এলাকায় দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সেলাইয়ের কাজও করছেন। শাড়ির ফলস, পিকো থেকে শুরু করে ব্লাউজ তৈরি—সব ধরনের কাজই করেন তিনি যত্ন সহকারে। তাঁর দোকানের প্রধান গ্রাহক এলাকার মহিলারাই, যারা তাঁর কাজের প্রশংসাও করেন।
advertisement
‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেব’, ধরনামঞ্চ থেকে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার!
প্রতিদিন সকালেই কেন্দুয়াডিহির বাড়ি থেকে হাতের উপর ভর দিয়ে নিজের দোকানে পৌঁছন রানী সরকার। তারপর দোকান খুলে ভেতরে ঢুকে শুরু করেন কাজ।
সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দোকান চালানোর পর বাড়ি ফিরে রান্নাবান্না সারেন। এরপর আবার বিকেল চারটে থেকে রাত দশটা পর্যন্ত নিজের দোকান সামলান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা অর্পিতা সরকার বলেন, “প্রতিটা মেয়ের ওনার কাছ থেকে শেখা উচিত। এত কষ্টের মধ্যেও তিনি সংগ্রামের চোখে চোখ রেখে লড়াই করছেন।” রানী সরকার নিজেও জানান, “আমি ঠিক করেছিলাম কখনও মাথা নত করব না। সংগ্রাম জীবনেরই অংশ। যতটুকু শক্তি আছে, সেটুকু দিয়েই কাজ করে যেতে চাই।”
নিজের শারীরিক অসুবিধাকে অজুহাত না করে যে দৃঢ়তা ও পরিশ্রমের সঙ্গে তিনি প্রতিদিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর। নারী দিবসের আগে বাঁকুড়ার রানী সরকারের এই লড়াই ও আত্মনির্ভরতার গল্প সমাজের সামনে এক অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।