একই গাছে কোথাও গোল, কোথাও লম্বাটে, আবার কোথাও অনিয়মিত আকৃতির পাতা দেখা যায়। এমন অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণেই স্থানীয়রা মজার ছলে গাছটির নাম দিয়েছেন ‘মাথা পাগলা’। গাছটি দেখতে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এখানে আসেন এবং কৌতূহল নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
advertisement
বটানিস্ট প্রিয়াঙ্কা দরিপা জানিয়েছেন, এই গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Pterygota alata। এটি মালভেসি (Malvaceae) পরিবারের একটি পত্রঝরা বৃক্ষ, যা সাধারণত ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমারসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উষ্ণ অঞ্চলে জন্মাতে দেখা যায়। গাছটি সাধারণত বেশ উঁচু হয় এবং এর কাণ্ড সোজা ও শক্তিশালী। পাতাগুলি সাধারণত বড় আকারের হলেও বিভিন্ন আকারে দেখা যাওয়া এই বৈশিষ্ট্যই গাছটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। এই গাছে লালচে বা কমলা রঙের ছোট ফুল ফোটে এবং পরে শক্ত খোলের মতো ফল ধরে। ফলের ভিতরে ডানা-যুক্ত বীজ থাকে, যা বাতাসে ভেসে দূরে ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ভিদবিদদের মতে, এই গাছ সচরাচর গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় না। তবে উন্নত মানের কিছু নার্সারিতে এর চারা পাওয়া যায় এবং সঠিক পরিবেশে লাগালে এটি দ্রুত বড় হয়ে ওঠে। কাঠও তুলনামূলকভাবে হালকা কিন্তু মজবুত হওয়ায় বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। কেঞ্জাকুড়া গ্রামের এই গাছটি তাই শুধু স্থানীয়দের কৌতূহলের কেন্দ্র নয়, বরং প্রকৃতির এক বিরল বৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন গাছ সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা আরও বাড়বে।
নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়





