জানা গিয়েছে, গ্রামে চলছিল স্থানীয় একটি অনুষ্ঠান, সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার-সহ উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা। বিশেষভাবে সক্ষম এক পরীক্ষার্থীকে কী ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়াবেন চিন্তিত বাবা আবেদন করেন পুলিশের কাছে। আর সেই আবেদনে সাড়া দেয় জেলা পুলিশ। বিশেষভাবে সক্ষম এক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের ব্যবস্থা করলো বাঁকুড়া জেলা পুলিশ।
advertisement
আরও পড়ুন: ‘সুপার ইমার্জেন্সি বাংলায়,৬ মাস থেকে কাজ করতে পারছে না প্রশাসন’! আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর
বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ থানার রানিবাঁধ হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা বছর পনেরোর পায়েল মোদক, স্থানীয় রানিবাঁধ গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী। বাবা প্রশান্ত মোদক পেশায় ফল বিক্রেতা। মা গৃহবধূ, এক চিলতে বাড়িতে পাঁচ ছেলেমেয়ে সমেত সাতজনের সংসার। এমন ই হত দরিদ্র পরিবারে হঠাৎ করে নেমে আসে বিপদ। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল ছোটবেলা থেকে। আর পাঁচটা বাচ্চার মত হেঁটে চলে স্কুলেও যেত পায়েল। বছর আটেক যখন বয়স হঠাৎ করেই সমস্যা শুরু হয়। হাত পা অকেজো হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর পিজি, রাচি, ভেলোর-সহ রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করানো হলেও কোনও সুবিধা হয়নি।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে হাজির হতে পারেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী! বুধবার শীর্ষ আদালতে SIR শুনানি
আবেদনের ভিত্তিতে স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয় নিয়ে যাওয়ার জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে করেই বাড়ির থেকে ৭০০ মিটার দুরত্বে রানিবাঁধ গার্লস স্কুলে পড়াশুনা করলেও মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়ে ১২ কিলোমিটার দূরের পূর্ণাপানি হাই স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র। আর তাতেই চিন্তা বাড়ে সহায় সম্বলহীন অসহায় পরিবার। তাহলে কি মাধ্যমিক দিতে পারবে না পায়েল, পাশে দাঁড়াল পুলিশ। মানবিক পুলিশ বাড়ি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র ও পরীক্ষা শেষে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে রানিবাঁধ থানার পুলিশের গাড়িতেই। পরীক্ষা কদিন একইভাবে এই ব্যবস্থা সচল থাকবে বলে দাবি পুলিশের। এছাড়াও যদি জেলার কোথাও এমন বিশেষভাবে সক্ষমরা পুলিশের সাহায্য চায়, আবেদন করলেই মিলবে সাহায্য, দাবি জেলা পুলিশের। পরিবারের আবেদনে সাড়া দিয়ে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ এই ব্যবস্থায় খুশি পরিবার, খুশি পায়েল।
