২৪ বছর দেশের সেবা করার পর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ স্বেচ্ছায় অবসর নেন তিনি। ভলেন্টিয়ার রিটায়ার্ড নিয়ে যোগ দেন কর্পোরেট সেক্টরে। বাঁকুড়ার ছাতনার বাসিন্দা সুধাময় খাওয়াস একসময় ছিলেন দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়—এসপিজি বা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপের সদস্য।
advertisement
এই বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুরক্ষা দেওয়া। প্রত্যন্ত ছাতনা থেকে দিল্লির দরবার পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথ ছিল লড়াই আর নিষ্ঠার গল্প। ১৯৯৪ সালে ছাতনা চন্ডীদাস বিদ্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পর পারিবারিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ১৯৯৯ সালে সিআরপিএফে যোগ দেন তিনি।
সিআরপিএফে যোগ দেওয়ার পর অসম, ছত্তিশগড় ও নাগাল্যান্ডে একের পর এক কঠিন এলাকায় দায়িত্ব সামলান সুধাময়। তাঁর সার্ভিস রেকর্ড ছিল অত্যন্ত ভাল, যার ফলস্বরূপ ডেপুটেশনের মাধ্যমে তাঁকে এসপিজিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসপিজির সদস্য হিসেবে তিনি খুব কাছ থেকে সুরক্ষা দিয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তাঁর পায়ের মাটি ছাড়েনি ছাতনার স্মৃতি।
আরও পড়ুন: ভারতীয় ‘১০০০’ টাকার ‘মূল্য’ গ্রিনল্যান্ডে কত হয় জানেন…? শিওর, চমকাবেন উত্তর শুনলেই!
তবে এই যাত্রাপথ সবসময় সুখের ছিল না। প্রায় ১০ বছর এসপিজিতে কাজ করার পর তিনি ফের সিআরপিএফে ফিরে আসেন। ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল ছত্তিশগড়ে নকশাল হামলায় প্রাণ হারান ২৫ জন সিআরপিএফ জওয়ান—সেই রোড সেফটি কোম্পানির সদস্য ছিলেন সুধাময় খাওয়াস।
খুব কাছ থেকে দেখেছেন সেই কালো দিন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কর্পোরেট সংস্থায় ভিভিআইপি প্রটেকশনের দায়িত্বে রয়েছেন। সম্প্রতি নিজের শিকড়ে ফিরে ছাতনা চন্ডীদাস বিদ্যাপীঠে এসে স্মৃতিচারণ করেন এই নির্ভীক জওয়ান, যাঁর জীবন আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা।





