ফায়ার ব্রিগেড অফিস চৌমাথা থেকে সোজা এগিয়ে খাদি তীর্থর উল্টো দিকে একটি সাদা বিল্ডিং, সেখানেই পশ্চিম রাঢ় ইতিহাস ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র। মঙ্গল থেকে রবিবার, বিকেল ৪টে থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে এই কেন্দ্র। এখানে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। গ্লোসেপ্টোরিস ছিল পার্মিয়ান যুগের (প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন বছর আগে) এক বিশেষ বীজধারী উদ্ভিদ। এদের লম্বাটে পাতার ছাপ আজ শিলাস্তরে স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত। যা প্ল্যান্ট ফসিল নামে পরিচিত।
advertisement
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারত ছাড়াও অ্যান্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় এই একই প্রজাতির জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। ফলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন, একসময় এই মহাদেশগুলি গন্ডোয়ানা নামে একত্রে যুক্ত ছিল। গ্লোসেপ্টোরিস ফসিল সেই ভূতাত্ত্বিক তত্ত্বের শক্ত প্রমাণ।
আরও পড়ুনঃ বিএসএফ ক্যাম্পে আত্মঘাতী জওয়ান! সার্ভিস বন্দুকের গুলিতে ঝাঁঝরা মাথার খুলি
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাঢ় বাংলার প্রাচীন শিলাস্তর ও ভূগঠনের কারণেই বাঁকুড়া অঞ্চলে এই ধরনের উদ্ভিদ জীবাশ্মের সন্ধান মিলেছে। এই ফসিলগুলি শুধু অতীতের উদ্ভিদের চিহ্ন নয়, বরং প্রাগৈতিহাসিক জলবায়ু, বনভূমি ও পরিবেশগত পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য তাই এই সংগ্রহশালা এক জীবন্ত পাঠশালা। যেখানে বইয়ের পাতার ইতিহাসকে সরাসরি চোখে দেখা যায়।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এখানেই শেষ নয়। কেন্দ্রটিতে রয়েছে একটি পাঠাগার, যেখানে বিনামূল্যে বসে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। ইতিহাসের খনি যেন এই ছোট্ট সাদা বাড়িটি। তিরিশ কোটি বছরের পুরোনো পৃথিবীর গল্প শুনতে চাইলে, আইলুকান্দির এই অনন্য ফসিল সংগ্রহশালা হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।





