ডাকাত কালী নামের উৎস হিসাবে জানা যায়, ঘন জঙ্গলের মধ্যে ডাকাতরাই প্রথম দেবীর আরাধনা শুরু করে। সেই থেকে লোকমুখে ডাকাত কালী নাম ছড়িয়ে পড়ে। ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে তারা মায়ের পুজো দিত ডাকাতরা। পরবর্তীকালে নির্জন জায়গায় মানুষের বসবাস বাড়ে। ঘন জঙ্গল এলাকা জনবসতিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু মায়ের পুজো অটুট থাকে। ধীরে ধীরে তারা কালীর পুজো সাধারণ মানুষের হাতে চলে আসে।
advertisement
তবে এও শোনা যায়, ডাকাতদের আড়ালে বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীরা মায়ের পুজো করতেন। ব্রিটিশ আমলে বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশ সরকার ‘ডাকাত’ হিসেবে চিহ্নিত করত। এই বিপ্লবীরাই লোকচক্ষুর অন্তরালে ডাকাত সেজে জঙ্গলে মায়ের আরাধনা করতেন। যদিও বালুরঘাট ডাকাত কালী পুজোর প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায় না।
আরও পড়ুনঃ আগুন রাঙা পলাশের দেখা নেই, ফিকে বসন্ত পুরুলিয়ায়! মন খারাপ পর্যটকদের, কেন প্রকৃতির রঙে এমন ঘাটতি?
তারা কালীর পরনে রয়েছে বাঘের ছাল। বৈষ্ণব মতে মায়ের পুজো করা হয়। দেবীর নির্দিষ্ট কোন মন্দির নেই। খোলা আকাশের নীচেই সারা বছর পড়ে থাকে মা তারার বেদী। দীপান্বিতা অমাবস্যায় নিয়ম-নিষ্ঠা সহকারে পুজোর আয়োজন করে এলাকাবাসী। গড়া হয় দেবীর প্রতিমা। পুজোর জন্য খড় দিয়ে অস্থায়ী মণ্ডপ তৈরি করা হয়। সারা রাত চলে পুজো। প্রথা মেনে, সূর্যোদয়ের আগে তারা কালীকে পার্শ্ববর্তী আত্রেয়ী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। সকালে প্রসাদ বিতরণ হয়।
