বনবস্তি থেকে বিএসএফে চাকরি। এই সময়টা সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে কেটেছে অমলের। কিন্তু বর্তমানে সবটা ভাবলে স্বপ্নের মতো মনে হয় অমলের। অমল মুন্ডা পূর্ব সাতালি বনবস্তির বাসিন্দা। তাঁর পরিবারে প্রথম পড়াশুনো করেছে অমল। তারপর সরকারি চাকরি, অমল মুন্ডা এখন গ্রামের কিশোর, কিশোরীদের অনুপ্রেরণা। বনবস্তি অধ্যুষিত প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও যে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সাফল্য মেলে, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কালচিনি ব্লকের পূর্ব সাতালির যুবক অমল মুন্ডা।
advertisement
আরও পড়ুন: ইছামতীর উপর তৈরি নয়া সেতু, এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষা! বদলে যাবে উত্তর ২৪ পরগনার যোগাযোগ ব্যবস্থা
সম্প্রতি তিনি এসএসসি জিডি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিএসএফ-এ চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন। অমলের বাবা শুক্রা মুন্ডা পেশায় কৃষক। মা গৃহবধূ। পরিবারে আর্থিক অনটন থাকলেও ছেলেকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন তাঁর বাবা-মা। অমল ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখত ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার। নির্বাচনের সময় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেখে সে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকত। এই স্বপ্নই তাকে এগিয়ে নিয়ে যায় কঠিন লড়াইয়ের পথে। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় চাকরির প্রস্তুতির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না তাঁর। তবুও হাল ছাড়েননি অমল।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
অমল জানায়, “ইউটিউব দেখে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রথম দু’বার সফল হইনি।কিন্তু তৃতীয়বার পেরেছি। বিএসএফ-এ যোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। খুব শীঘ্রই ট্রেনিং-এ যেতে হবে।” ছেলের এই সাফল্যে খুশি অমলের পরিবার। তাঁর বাবা শুক্রা মুন্ডার কথায়, “নিজের পাশাপাশি আমাদের স্বপ্নও পূরণ করেছে ছেলে। গ্রামের আরও ছেলেমেয়েরা যেন পড়াশোনা করে জীবনে এগিয়ে যায়, এটাই আমাদের আশা।” অমলের এই কৃতিত্বে পূর্ব সাতালি গ্রামে এখন উৎসবের আবহ। স্থানীয়দের মতে, বনবস্তি অধ্যুষিত এই এলাকার তরুণদের কাছে অমলের সাফল্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।





