প্রতি বছর স্কুল, কলেজে ঘটা করে সরস্বতী পুজোর আয়োজন হয়। পুজোর এক সপ্তাহ আগে থেকেই খোশমেজাজে থাকে পড়ুয়ারা। পড়াশুনো কমে যায় যথারীতি।পুজোর দায়িত্ব নিতে দেখা পড়ুয়াদের। প্রতিটি স্কুল কলেজ ঘুরলে দেখা যায় এই ছবি। সরস্বতী পুজোর নিমন্ত্রণ থেকে শুরু করে পুজোর পুরোহিত সব ঠিক করার দায়িত্ব থাকে পড়ুয়াদের হাতেই। তবে এই প্রথম আলিপুরদুয়ারে পুরুষ পুরোহিত দিয়ে পুজো করাচ্ছে না নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষিকা, পড়ুয়ারা। এবারে বাগদেবীর আরাধনা সম্পন্ন হবে স্কুলের চার পড়ুয়ার হাতে।
advertisement
আরও পড়ুন: দার্জিলিংয়ে দুর্গাপুজোয় আলাদা মাত্রা এনে দিলেন ‘ওঁরা’! ‘আগে কখনও দেখেনি’ বলছেন সবাই
যারা ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ এই বাংলা সিনেমাটি দেখেছেন, তাদের খুব ভাল করেই মনে আছে শবরী চরিত্রটির কথা। যিনি ছিলেন সংস্কৃতের অধ্যাপিকা। কিন্তু সমাজের কিছু বিশেষ সংস্কার তাকে মানতে দেখা যায়নি। যুক্তি দিয়ে সেই সংস্কার খন্ডন করতেও দেখা গিয়েছে তাকে। এই সিনেমাতেই একটি দৃশ্য রয়েছে যেখানে কলেজের সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পুজো করার কথা এক পুরোহিতের। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে আসতে দেখা যায়নি, অবশেষে কলেজের পুজোতে পৌরোহিত্য করলেন শবরী। এই তো হল চলচ্চিত্রের কাহিনী। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে শবরীরা। আলিপুরদুয়ার নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর চার ছাত্রী সুমেধা ঘোষ, পৃথা সরকার পূর্বাশা দেবনাথ এবং প্রিয়াঞ্জলি দাস। এবারে বাগদেবীর পুজো করবেন তারা। প্রতিবারই পুরুষ পুরোহিত দিয়ে পুজোর আয়োজন হয় স্কুলে। এবারে শিক্ষিকারা চাইছিলেন প্রথা ভাঙ্গা হোক। এই চার ছাত্রীকে পুজো শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষিকারা। স্কুলে গেলেই দেখা যাচ্ছে চার ছাত্রীকে মন্ত্র পাঠের মহড়া দিতে। প্রথাভাঙার এই পুজোয় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না তারা।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এর আগে রাজ্যের বেশ কয়েকটি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরুষ পুরোহিত ছাড়াই সরস্বতী পুজো হয়েছে। তবে আলিপুরদুয়ার জেলায় এই প্রথম। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শ্রেয়সী দত্ত জানান, “প্রথা তৈরি হয় ভাঙার জন্য। আমরা চাই না কোনও বিশেষ সংস্কার বেঁধে ফেলুক স্কুলের পড়ুয়াদের মন। যা তাদের মুক্ত চিন্তার পথে বাধার সৃষ্টি করে। দেবী সরস্বতী বিদ্যার দেবী, জ্ঞানের দেবী তিনি। জ্ঞানের আলো আগামী প্রজন্ম ছড়িয়ে দেবে, এই বিষয়ে আমি আশাবাদী।”





