আমাদের আপাত দৃষ্টিতে যা ফেলে দেওয়ার বস্তু, তাই বিদেশের মাটিতে ঘর সাজানোর সামগ্রী। দেশের আবর্জনাতেই সেজে উঠছে 'মেম-সাহেবদের' ঘর। এই আগাছা রপ্তানি করে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংসার সামাল দিচ্ছে আশিস নগরের প্রায় ১০০ টি পরিবার (West Bardhaman News)।
কিন্তু সম্ভব হচ্ছে কিভাবে? আসলে কাজটায় বা কি? যোগানই বা আসে কোথা থেকে? প্রশ্ন অনেক। উত্তর দিচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কোনও চাষাবাদ ছাড়াই বিনা ব্যায়ে প্রকৃতির কোল থেকে পাওয়া যাচ্ছে সর, কাশ ও হোগলা সহ নল গাছের ফুল৷ কেবল ফুল নয় রোজগার হচ্ছে ওই সমস্ত গাছের কাঠি থেকেও, দাবি ওই এলাকার এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের। শিল্পাঞ্চলের দামোদর নদের পাড়ে বসবাসকারী ওই পরিবারগুলির বর্তমানে জীবন-জীবিকা হয়ে উঠেছে প্রকৃতি থেকে সংগৃহীত শুকনো ফুল ও কাঠি বিক্রি।
advertisement
শিল্পাঞ্চল থেকে ওই ফুল ও কাঠি কলকাতার কিছু ব্যবসায়ী সংগ্রহ করেন। তারপর তা সাজিয়ে তোলেন নানান ধাঁচে, নানান রঙে। তারপর ওই আগাছা রূপ পরিবর্তন করে পাড়ি দেয় বিদেশের মাটিতে। ওই সমস্ত সামগ্রী চড়া দামে বিক্রি হয় বিভিন্ন দেশের বাজারে। দেশের বাজারেও ইকো ফ্রেন্ডলি এই ঘর সাজানোর সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে।
উল্লেখ্য, রপ্তানি সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে ফুল একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ (West Bardhaman News)। নৈবেদ্য থেকে সাজসজ্জা, প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে ফুলের। ফুল চাষের ওপর নির্ভর করে দেশের বহু মানুষের জীবন-জীবিকা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে শুকনো ফুলের চাহিদা প্রায় তিনদশক ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফুল রপ্তানিতে ভারত পঞ্চম বৃহত্তর শিল্প হয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপ, জার্মান, রাশিয়া, ইংল্যান্ড ও জাপান সহ প্রায় ২০ টি দেশে ভারতের প্রায় ৫০০ প্রজাতির শুকনো ফুল রপ্তানি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ব্যারেজের জলধারের ঊর্ধ্বমুখী দামোদর নদের ছোটো ছোটো চরে সর, কাশ, হোগলা ও নল গাছের বিশাল জঙ্গল রয়েছে (West Bardhaman News)। ওই এলাকার নদের পাড়ের বাসিন্দারা সেই সব গাছের ফুল ও কাঠি সারাবছর সংগ্রহ করেন। তারপর সেগুলি রোদে শুকনো করেন। তারপর ব্যাবসায়ীরা এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন ভাগে সেই শুকনো ফুল ও কাঠিগুলি কিনে নেন। তারপর এই সমস্ত জিনিসগুলি কারখানায় নিয়ে গিয়ে রূপ বদল করা হয়। রংবেরঙের করে তোলেন। পরবর্তী ধাপে কলকাতার বেশ কয়েকটি রপ্তানি সংস্থা সেগুলি কিনে নিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে।
স্বাভাবিকভাবে বলা যায়, আমাদের কাছে যা ফেলে দেওয়ার বস্তু, আগাছা-আবর্জনা, তা দিয়েই সেজে উঠছে পাশ্চাত্য দেশগুলির আধুনিক ঘর। ইকো ফ্রেন্ডলি এই সমস্ত সামগ্রীর ওপর বাড়ছে মানুষের ঝোঁক। আগাছা দিয়ে ব্যবসা করে চলছে সংসার। আসছে বৈদেশিক মুদ্রা। শুধুমাত্র দুর্গাপুরের কিছু পরিবার নয়, এই ব্যবসার ওপর নির্ভর করে বহু মানুষ জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। কর্ম সংকটের এই সময় উপার্জনের নতুন দিশা দেখাচ্ছেন দুর্গাপুরের কিছু মানুষ।
Nayan Ghosh






