ঝাড়খণ্ডের একটি ফাঁকা লরিকে ঘিরে গল্পের সূত্রপাত। লরিটিকে কেন্দ্র করেই ছিল দুষ্কৃতীদের পরিকল্পনা, আর পুলিশের অপারেশন। ঝাড়খণ্ডের একটি ফাঁকা লরি খড়গপুর থেকে পুরুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল (West Bardhaman News)। হঠাৎ একদল দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে গাড়িটির পথ আটকায়। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বাঁকুড়ার ওন্দা থানার এলাকা থেকে অপহরণ করা হয় লরিটি। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের কালিসেন এলাকা থেকে দুষ্কৃতীরা অপহরণ করে লরিটি।
advertisement
পুলিশ সূত্রে খবর, চার জন দুষ্কৃতী একটি গাড়িতে আসে। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে লরিটিকে আটকানো হয়। তারপর অপহরণ করা হয় লরিটি। ফাঁকা ওই লরিটি ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ এলাকার বলে জানা গিয়েছে। লরিটি অপহরণের পর দুষ্কৃতীর দল, নিজেদের ব্যবহৃত গাড়ি এবং লরিটি নিয়ে দুর্গাপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এই খবর পাওয়ার পরে তৎপর হয় বাঁকুড়া জেলা পুলিশ। দুষ্কৃতীদের পালিয়ে যাবার পথ অনুমান করে বিভিন্ন জায়গায় নাকাবন্দি করার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে সফলতা পায় পুলিশ। দুর্গাপুর ব্যারেজের কাছে বসানো নাকাতে বাঁকুড়া পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দুষ্কৃতী দল। উদ্ধার করা হয়েছে লরিটিকে। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে চার দুষ্কৃতীকেও (West Bardhaman News)। এছাড়াও আটক করা হয়েছে দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত গাড়িটিও। ওই দুষ্কৃতীদের কাছে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। চার দুষ্কৃতীর মধ্যে দুজনের কাছে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে দুজন উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা। তাছাড়া একজন ওড়িশার বাসিন্দা এবং অপরজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। অভিযুক্তদের নাম অভয় রাজ, সুধীর পাটেল, কৃষ্ণ কুমার এবং সোমনাথ বেহেরা।
এই বিষয়ে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি হেডকোয়ার্টার বিবেক বর্মা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ এই খবর পাওয়ার পরেই অতি দ্রুততার সঙ্গে সক্রিয় হয় (West Bardhaman News)। ঘণ্টা দেড়েকের স্নায়ুযুদ্ধের পর সফলতা পায় পুলিশ। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রগুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ট্রাক অপহরণের সঙ্গে কোন আন্তঃরাজ্য বড় চক্র জড়িত আছে কিনা, সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।
Nayan Ghosh






