যদিও মেলায় আসা পুণ্যার্থী এবং দর্শনার্থীদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। জনসমাগমের ফলে যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণ না ছড়িয়ে পড়ে, তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, প্রশাসন থেকে শুরু করে মেলার আয়োজক, উদ্যোক্তা সকলেই বারবার মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রচার করছেন (West Bardhaman News)। অনুরোধ করছেন। তাছাড়াও ঐতিহ্যবাহী এই মেলাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
advertisement
কবি জয়দেব দাসের স্মৃতিতে প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। অজয় নদীর পাড়ে জয়দেব মেলা কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার মানুষ। অন্যান্য জেলা এবং দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এই মেলায় এসে হাজির হন প্রতি বছর। অজয় নদীর দু'পাড়ে তৈরি হয় বাউলের আখড়া। বহু সাধক, সন্ন্যাসী এই মেলায় আসেন। প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করা হয় মহা ধুমধামের সঙ্গে।
তবে চলতি বছরের চিত্রটা অন্যরকম। জৌলুস কমেছে মেলার। জনসমাগম প্রতি বছরের তুলনায় যথেষ্ট কম (West Bardhaman News)। জয়দেব মেলা হওয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন উদ্যোক্তারা। তবে প্রশাসনের অনুমতিতে ছোট করে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষ যাতে সুস্থভাবে এই মেলায় ঘুরতে পারেন, মেলা উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য সব রকমের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। ঐতিহ্যবাহী মেলার ঐতিহ্য অটুট রাখতে সর্বতোভাবে চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা।
জানা গিয়েছে, মেলার প্রবেশদ্বার থেকে সমগ্র মেলা চত্বরে করোনার বিধি-নিষেধ মেনে চললে, তবেই মেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। এমনই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পোস্টার দেওয়া হয়েছে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে। মাইকিং করে জনসাধারণকে সচেতন করার কাজ চলছে লাগাতার। পাশাপাশি এবছর সকলকে করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়ে মাটির মডেল তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণে। যেখানে একজন নার্স সাধারণ মানুষদের ভ্যাকসিন দিচ্ছেন।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা এই মডেল তৈরি করে সাধারণ মানুষকে মাস্ক পড়ার পাশাপাশি করোনা ভাইরাসকে হারানোর জন্য ভ্যাকসিন নেওয়ার বার্তা দিতে চান। যারা এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন নেয়নি, তাদের দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। সমস্ত বিধি-নিষেধ মেনে ঐতিহ্য অটুট রাখতে ছোট করে মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
Nayan Ghosh






