তবে শুধু পার্কস্ট্রিট নয়, কার্যত একই ছবির সাক্ষী থেকেছে শিল্পনগরী দুর্গাপুর (West Bardhaman News)। বড়দিনে মানুষের ভিড় সামাল দিতে চার্চ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। শিল্পনগরী দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারের এই ঘটনা নজিরবিহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন অনেকে। একই জায়গায় মানুষের জমায়েতে সংক্রমনের আতঙ্কে ভুগছে দুর্গাপুর। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায়, পাল্লা দিয়ে শেয়ার হচ্ছে দুর্গাপুরের একটি শপিংমলের ছবি। মলের ভিতরে - বাইরে অগণিত মানুষের ভিড় দেখে বোঝার উপায় নেই যে, দেশে বাড়ছে ওমিক্রণ আক্রান্তের সংখ্যা। সেখানে নেই কোন দূরত্ব বিধি। মানুষের আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠতে বাধা নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, সাবধানতা মেনে উৎসব উদযাপনের কথা। কিন্তু শপিং মলের সামনে মানুষের ভিড়ে সচেতন মানুষের সংখ্যা ছিল নেহাতই নগণ্য। দুর্গাপুরের শপিং মলের ছবি কার্যত টক্কর দিতে পারে পার্ক স্ট্রিটের সঙ্গে।
advertisement
বছর শেষের উৎসবে রাস্তাঘাটে মানুষের সংখ্যা যে বাড়বে, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত ছিল প্রশাসন (West Bardhaman News)। পুলিশের তরফ থেকেও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বারবার প্রশাসনের তরফ থেকে প্রচার করা হয়েছিল, উৎসবের দিনগুলিতে করোনা বিধি মেনে চলার জন্য। কিন্তু সেই নির্দেশিকার তোয়াক্কা না করে, বা কর্ণপাত না করে, যত্রতত্র দেখা গিয়েছে মানুষের ভিড়। মাস্কহীন হয়ে ঘুরেছেন অনেক মানুষ। দূরত্ব বিধি মেনে চলার বালাই দেখা যায়নি। এখান থেকেই বাড়ছে সংক্রমণের ভয়।
দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে বড়দিনে চার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয় মানুষের ভিড় সামাল দিতে। তাতেই বিপত্তি আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ বড়দিনে চার্চ বন্ধ থাকায়, মানুষ বিকেলের পর থেকে ভিড় জমিয়েছিলেন দুর্গাপুরের জনপ্রিয় ওই শপিংমলের ভিতরে-বাইরে। ঘোরাফেরা, খানাপিনা এবং আড্ডা মারার জন্য আট থেকে আশি, বেশিরভাগ মানুষেরই সেদিন পছন্দ ছিল ওই শপিংমল। তাই কার্যত বহু মানুষের জমায়েত লক্ষ্য করা গিয়েছে সিটি সেন্টারের শপিং মলের সামনে। দুর্গাপুরের টিনেজার থেকে যুবক-যুবতী, সবাই বড়দিনে ঘুরতে যাওয়ার ছবি শেয়ার করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবার প্রোফাইলে শপিংমলের সামনে ভিড়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ার ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সেখান থেকেই আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে।
অনেকেই মনে করছেন, মানুষের এই উদাসীনতার ফলে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে সংক্রমণ (West Bardhaman News)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন বহু মানুষ দ্বিতীয় ডোজ না নিলেও, প্রথম ডোজ নিয়ে নিয়েছেন। তাই নিজেদের সুরক্ষিত মনে করছেন বেশিরভাগ মানুষ। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের পরে নিজেদের অভ্যাস ভুলতে বসেছেন অনেকে। সেই সমস্ত উদাসীনতা থেকেই স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে এমন জমায়েতের ছবি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
অনেক বিশেষজ্ঞ মত প্রকাশ করছেন, এই সময় দেশে ফের সংক্রমণ বাড়ছে। সামনেই আসছে ইংরেজি নববর্ষ। তার আগে পুলিশ প্রশাসনকে আরও কিছুটা কঠোর হওয়ার অনুরোধ করছেন তারা। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
Nayan Ghosh






